অনলাইন ডেক্স ।।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের মূল্যায়ন কখনোই কেবল প্রশংসা বা সমালোচনার সরল রেখায় আটকে রাখা যায় না। তারা একদিকে ইতিহাসের নির্মাতা, অন্যদিকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঠিক সেই ধরনের এক চরিত্র। তাকে ঘিরে রাজনৈতিক আবেগ আছে, মতাদর্শিক সংঘর্ষ আছে, আবার গভীর রাষ্ট্রচিন্তার উপাদানও আছে।
কিন্তু আজকের তরুণ নেতৃত্বের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনকে যদি ঠান্ডা মাথায় পড়া যায়, তাহলে দেখা যাবে—এটি আসলে এক অসমাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে বইয়ের চেয়ে বাস্তবতার পাঠ বেশি, বক্তৃতার চেয়ে সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বেশি, আর স্লোগানের চেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্মম হিসাব বড়।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি জন্ম নিয়েছিল এক ভয়ংকর রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ কেবল ভূখণ্ডের স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্রীয় পরিচয় পুনর্গঠনের লড়াই।
যুদ্ধের সেই সময়ে তরুণ সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান যে ঘোষণা পাঠ করেছিলেন, সেটি নিয়ে রাজনৈতিক যুক্তি-তর্ক হতে পারে, কিন্তু তার সাহস নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। সংকটের সময় নেতৃত্বের প্রথম শর্ত হচ্ছে সামনে দাঁড়ানোর মানসিকতা। আজকের তরুণ সমাজে মতামতের অভাব নেই, কিন্তু ঝুঁকি নেওয়ার সাহস কমে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে সবাই বিপ্লবী, কিন্তু বাস্তব জীবনের চাপের মুখে অধিকাংশ মানুষ নীরব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন এখানেই তরুণদের অনুপ্রেরণা দেয়। কারণ নেতৃত্ব কেবল জনপ্রিয়তার শিল্প নয়; এটি বিপদের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তূপ পেয়েছিল, সেটি এখনকার প্রজন্ম কল্পনাও করতে পারবে না। ১৯৭২ সালে বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা যায়, দেশের অবকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছিল, শিল্প উৎপাদন বিপর্যস্ত ছিল, খাদ্যনিরাপত্তা ছিল অনিশ্চিত। এমন বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনা করা মানে কেবল বক্তৃতা দেওয়া নয়; প্রতিদিন বেঁচে থাকার লড়াই চালানো। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই জায়গায় এসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তববাদী পথ বেছে নেন। তিনি বুঝেছিলেন, দরিদ্র রাষ্ট্রে রাজনৈতিক রোমান্টিসিজম দীর্ঘস্থায়ী হয় না। পেট খালি থাকলে মানুষ বড় বড় তত্ত্ব শোনে না। তাই তিনি কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং উৎপাদনমুখী উন্নয়নকে সামনে আনেন।
‘খাল কাটো, দেশ গড়ো’ স্লোগানটিকে আজ অনেকেই সরলীকৃতভাবে দেখেন, কিন্তু এর পেছনে ছিল এক ধরনের রাষ্ট্রীয় দর্শন। উন্নয়নকে তিনি আমলাতান্ত্রিক কক্ষে বন্দী রাখেননি; মাঠে নামাতে চেয়েছিলেন।
তরুণ নেতৃত্বের জন্য এখানেই বড় শিক্ষা লুকিয়ে আছে। রাষ্ট্র পরিচালনা মানে কেবল নৈতিক অবস্থান নেওয়া নয়; অর্থনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে পারাও জরুরি। আজকের পৃথিবী আরও নির্মম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণচাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, খাদ্য ও জ্বালানির বৈশ্বিক বাজার—সবকিছু এখন একে অপরের সঙ্গে জড়িত। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে গম, জ্বালানি ও সারের মূল্য যেভাবে বেড়েছিল, তাতে উন্নয়নশীল দেশগুলো ভয়াবহ চাপের মুখে পড়ে। বাংলাদেশও এর বাইরে ছিল না। এই বাস্তবতায় তরুণ নেতৃত্ব যদি অর্থনীতির ভাষা না বোঝে, তাহলে তাদের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কেবল আবেগের বাজারে আটকে যাবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বড় শক্তি ছিল, তিনি অর্থনীতিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখতেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বৈদেশিক নীতিও তরুণদের জন্য গভীর শিক্ষার জায়গা। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনেকটাই একমুখী অবস্থানে ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন, চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করেন এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গেও বাস্তববাদী যোগাযোগ বাড়ান। এখানে তার কৌশল ছিল খুব স্পষ্ট—ছোট রাষ্ট্রকে টিকে থাকতে হলে বহুমুখী সম্পর্ক দরকার। এই দর্শন আজ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। কারণ বর্তমান বিশ্ব কার্যত নতুন এক ঠান্ডা যুদ্ধের ভেতর ঢুকে পড়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা, অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান জোট। ভারত আবার নিজস্ব আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখতে চাইছে। বঙ্গোপসাগর এখন শুধু সমুদ্র নয়; এটি ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নতুন মঞ্চ। তরুণ নেতৃত্বকে বুঝতে হবে, কূটনীতি মানে আবেগ নয়, স্বার্থের হিসাব।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ সমাজ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে দাঁড়িয়ে বিষয়টি হয়তো খুব সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু সত্তরের দশকের শেষভাগে বাংলাদেশের বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন দেশের বড় অংশে বিদ্যুৎ পৌঁছেনি, শিল্পায়ন ছিল সীমিত, প্রযুক্তি শিক্ষা ছিল নগরকেন্দ্রিক এবং গবেষণার অবকাঠামো প্রায় অনুপস্থিত। সেই সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বুঝেছিলেন, কেবল আবেগ দিয়ে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যাবে না; বিজ্ঞান, কারিগরি শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা ছাড়া বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না। এ কারণেই তার শাসনামলে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর সম্প্রসারণ, কৃষি গবেষণাকে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বাড়ানোর চিন্তা সেই সময়ের জন্য যথেষ্ট দূরদর্শী পদক্ষেপ ছিল।
তখন বিশ্ব রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন চলছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে শিল্প অর্থনীতি গড়ে উঠেছিল, সত্তরের দশকের শেষভাগে সেটি ধীরে ধীরে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপ নিতে শুরু করে। জাপানের ইলেকট্রনিকস শিল্পে উত্থান, দক্ষিণ কোরিয়া ভারী শিল্প ও প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে, সিঙ্গাপুর দক্ষ জনশক্তিকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই বৈশ্বিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন। তার বক্তব্য ও নীতিতে প্রায়ই ‘দক্ষ জনশক্তি’ তৈরির প্রসঙ্গ উঠে আসত। কারণ তিনি জানতেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মাটি নয়, মানুষ। আর সেই মানুষকে যদি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষায় গড়ে তোলা না যায়, তাহলে স্বাধীনতার রাজনৈতিক অর্জনও দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল হয়ে পড়বে।
তরুণদের জন্য এখানেই বড় শিক্ষা আছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বুঝতেন, রাষ্ট্রের শক্তি কেবল অস্ত্রে নয়; ল্যাবরেটরি, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, প্রকৌশল শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে। এ কারণেই তিনি কৃষি আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন। উন্নত বীজ, সেচব্যবস্থা এবং কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির যে ভিত্তি তৈরি হয়, তার পেছনে এই নীতির ভূমিকা ছিল। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা কেবল কৃষির প্রশ্ন নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও।
আজকের তরুণ সমাজের বড় একটি অংশ প্রযুক্তিকে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখে। কিন্তু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা ছিল অন্যরকম। তিনি প্রযুক্তিকে দেখেছিলেন উৎপাদন, দক্ষতা এবং আত্মনির্ভরতার হাতিয়ার হিসেবে। এখন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর এবং ডেটা অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বর্তমান প্রতিযোগিতার কেন্দ্রও মূলত প্রযুক্তি। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্ব যদি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কেবল পরীক্ষার বিষয় হিসেবে দেখে, তাহলে তারা ভবিষ্যৎ বিশ্বরাজনীতির ভাষাই বুঝতে পারবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন অন্তত এই শিক্ষা দেয় যে, আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রযুক্তিবান্ধব চিন্তা অপরিহার্য।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভাষা নিয়েও আলোচনা জরুরি। তিনি অত্যন্ত জটিল তত্ত্বের মানুষ ছিলেন না, কিন্তু তিনি মানুষের ভাষা বুঝতেন। তার বক্তব্যে এক ধরনের সামরিক সংক্ষিপ্ততা ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জানতেন, মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভাষায় কথা বলতে হয়। তরুণ নেতৃত্বের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। জনগণকে অবজ্ঞা করে রাজনীতি করা যায় না।
একটি জায়গায় তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিলেন। তিনি ব্যক্তিপূজার রাজনীতিকে উৎসাহিত করেননি। বরং দলীয় ও প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা সেই চেষ্টারই অংশ ছিল। তিনি বুঝতেন, ব্যক্তি চিরস্থায়ী নয়; প্রতিষ্ঠানই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখে। আজকের তরুণদের বড় একটি সমস্যা হলো তারা দ্রুত জনপ্রিয়তা চায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রতিষ্ঠান গঠনের ধৈর্য কম। রাজনৈতিক দল, নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ—এসব ছাড়া রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা অন্তত এই সত্য মনে করিয়ে দেয়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিজীবনের শৃঙ্খলাও বিশেষভাবে লক্ষ করার মতো। তিনি তুলনামূলক কম কথা বলতেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতেন। আজকের রাজনীতিতে আমরা উল্টো প্রবণতা দেখি। প্রচার বেশি, সিদ্ধান্ত কম। ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি আছে, কিন্তু নীতিগত দৃঢ়তা দুর্বল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন সামরিক পরিবেশে গড়ে ওঠা মানুষ। তার মধ্যে আবেগ ছিল, কিন্তু সেই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও ছিল। তরুণ নেতৃত্বের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনায় অতিরিক্ত আবেগ অনেক সময় বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
আরেকটি বড় শিক্ষা হলো আত্মনির্ভরতার ধারণা। তিনি বিদেশি সহায়তা নিয়েছেন, কিন্তু রাষ্ট্রকে কেবল দাতানির্ভর অবস্থায় রাখতে চাননি। তিনি কৃষি উৎপাদন, শ্রমশক্তি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আজকের বিশ্বে এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিনির্ভরতা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ঋণসংকটে পড়েছে। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পতনও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সতর্কবার্তা। তরুণ নেতৃত্ব যদি উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের রাজনীতি না বোঝে, তাহলে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনকে আমি প্রায়ই এক ধরনের অসমাপ্ত সামরিক-রাজনৈতিক উপন্যাস মনে করি। সেখানে বীরত্ব আছে, কঠোরতা আছে, আবার রাষ্ট্র নির্মাণের এক তাগিদও আছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে তার হত্যাকাণ্ড কেবল একজন রাষ্ট্রপতির মৃত্যু ছিল না; সেটি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার আরেকটি নির্মম অধ্যায়।
আজকের তরুণ নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তারা কি কেবল ক্ষমতা দখলের রাজনীতি করবে, নাকি রাষ্ট্র নির্মাণের দীর্ঘ ও কষ্টকর পথে হাঁটবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন এই প্রশ্নের সহজ উত্তর দেয় না; বরং তরুণদের সামনে আয়না ধরে। সেই আয়নায় দেখা যায় সাহস, বাস্তববাদ, শৃঙ্খলা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং অসমাপ্ত স্বপ্নের মিশ্র ছবি। এ কারণেই তার জীবন এখনও একটি অসমাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়—যেখানে পাঠ শেষ হয় না, বিতর্ক থামে না, কিন্তু শেখার দরজা সবসময় খোলা থাকে।