নির্বাচন নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না হলেও বরিশাল সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ঠিক করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলালকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছে দলটি। এদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। এছাড়াও জাতীয় পার্টির যুগ্ন মহাসচিব ইকবাল হোসেন তাপস আবারো নির্বাচন করতে পারেন এমন একটি গুন্জন চলছে।
ফলে এখন পর্যন্ত এটা নিশ্চিত যে, আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে মূল লড়াই হবে জামায়াতের প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির। যদিও এই নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপরও লড়াইটা যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা দলীয় প্রতীক থাক বা না থাক, মেয়র পদে দলীয়ভাবেই প্রার্থী দেবে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো।
সবশেষ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২০১৮ ও ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনে ওঠে ব্যাপক কারচুপি আর ভোট ছিনতাইয়ের অভিযোগ। এ দুটি নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করা হয় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।(যার ভোটের সংখ্যা ছিল মুল ভোটারের চেয়েও দেড়গুণ বেশি) এবং দ্বিতীয়বার শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাতকে।
২০২৩-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের খোকন সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। লোকদেখানো সেই ভোটে ৩৫ হাজারের মতো ভোট দেওয়া হয় তার বাক্সে। ভোটের দিন অনিয়ম-কারচুপির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার শিকার হন ফয়জুল।
বর্তমানে এই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসাবে রয়েছেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন। তাকে চলতি বছরের ১৬ মার্চ নিয়োগ দেয় সরকার।নিয়োগ প্রাপ্তির পর তিনি বরিশাল মহানগর এলাকায় নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।ঝিমিয়ে পড়া বরিশাল নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেছেন জোড়েশোরে।এমনকি জনগনও তাকে গ্রহন করছেন খুবই ভালোভাবে।আগামীতে তিনি নিজে দলের (বিএনপি) প্রার্থী হবেন এটা শতভাগ নিশ্চিত।তিনিসহ আরও অন্তত ৬ জন আছেন মেয়র পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায়।এরা হলেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়দুল হক চাঁন, মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, দক্ষিন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন,মহানগর বিএনপির ১নং যুগ্ন আহবায়ক আফরোজা নাসরীন ও মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির। তাদের মধ্যে কার ভাগ্যে জুটবে মনোনয়ন, তা নিশ্চিত নয়। তবে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একধাপ এগিয়ে গেছে জামায়াত। মেয়রপ্রার্থী হিসাবে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলালকে চূড়ান্ত করেছে তারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে হেলালকে প্রার্থী করেছিল জামায়াত। পরে আসনটি ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়ে দেয় দলটি। ফলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন হেলাল।
মেয়র পদে প্রার্থিতা প্রশ্নে হেলাল বলেন, ‘মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দল থেকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে আমাকে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেভাবেই কাজ করছি।’
মেয়র পদে এখানে আরেক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ধরা হয়েছিল মুফতি ফয়জুল করীমকে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ভোট পেয়েছিলেন তিনি। একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সিটি মেয়রসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। তবে এবার মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। মুঠোফোনে মুফতি ফয়জুল করিম বলেন, ‘আমাদের দল থেকে একজন প্রার্থী থাকবে। তবে আমার নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা নেই।’ পরিচয় না প্রকাশের শর্তে ইসলামী আন্দোলনের এক নেতা বলেন, ‘ফয়জুল করিম চরমোনাইয়ের বর্তমান পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের ছোট ভাই। তার প্রার্থী হওয়া আর অন্য কাউকে প্রার্থী করা তো এক নয়। তিনি প্রার্থী হলে যে গণজোয়ার আসবে, তা অন্য কাউকে দিয়ে সম্ভব নয়।তবে এখানে এ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ নাসির নামক চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহযোগী সংগঠন ইসলামি আইনজীবী পরিষদের এক ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত বিএনপিতে মেয়র পদের মনোনয়ন নিয়েও রয়েছে দ্বন্দ্ব। এখানের বেশিরভাগ মেয়র প্রার্থীর দাবী এবার দলের কোন প্রার্থী থাকবে না সেক্ষেত্রে জনগনকে সাথে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন তারা।যদি এমনটা হয় তাহলে বিএনপি থেকে ২/৩ জন প্রার্থী হবার কথা । সেক্ষেত্রে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে বিএনপির প্রার্থীদের।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া সবশেষ ১০ জুন পর্যন্ত ওয়ার্ডভিওিক গনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন
নগরের ২৭,২৮,২৯ নং ওয়ার্ড। তিনি সিটি মেয়র প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন এটা সকলেই নিশ্চিত।অন্যদিকে অনেকটা কৌশলে এগুচ্ছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতুল্লাহ। তিনি মুখে নিজেকে সামনের নির্বাচন এ প্রার্থী দাবী না করলেও দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি জনগনের সাথে সম্পৃক্ততাও বাড়াচ্ছেন তিনি।আলাপকালে অনেকটা কৌশলী এ নেতা নেতা বলেন,বরিশালের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে। এখান থেকে বিগত সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম কিন্তু দল অন্য কাউকে দিয়েছে। দল সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যদি মনে করেন আমি যোগ্য তাহলে অবশ্যই নির্বাচন করবো।কিন্তু ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজেকে প্রার্থী- প্রার্থী বলে প্রচারনায় তিনি নেই বলে জানান এ প্রতিবেদককে।
আলাপকালে বরিশাল সিটির বর্তমান প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন,তিনি জনগনের সাথে কাজ করেন।জনগণের জন্য কাজ করেন।এখন প্রশাসক হিসেবে যে কাজ করছেন সেটা তার টেষ্ট পরীক্ষা।দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে বিশ্বাস করে যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটাকে তিনি আমানত হিসেবে নিয়েছেন। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবশ্যই অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।
– ©একটি রাইসুল ইসলাম অভির প্রতিবেদন