বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন
Logo

এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলা

/ ২০ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ।।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুনের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দিতে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রজাপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মামুন একটি ভেকু (খননযন্ত্র), ভ্যান, কোদাল ও খোয়া নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজাপাড়া মৌজার ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে জমির মাটি কেটে আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়।

খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজে বাধা দেন। এসময় নুরুজ্জামান কাফি ক্ষিপ্ত হয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, পরে অভিযুক্তরা প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত, প্রায় ছয় শতাংশ জমির অন্তত এক লাখ টাকার মাটি কেটে ট্রলিযোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। ওই জমিতে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন তারা। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে, গত ১৪ জুলাই বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন নুরুজ্জামান কাফি। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন, ‌‘জমিটির ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছেন। তাদের কাছ থেকে আমি বায়নামূলে জমি কিনেছি। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেছি। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের সঙ্গে আমার কোনো সামনাসামনি দেখা বা কথাবার্তা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’

কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস মিয়া বলেন, মামলাটি রুজু হয়েছে। আদালত তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দিতে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com