পিরোজপুর প্রতিনিধি ।।
পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে রাশিদা বেগম (৪৫) নামে এক তালাকপ্রাপ্ত নারীকে সন্তানের সামনে রাস্তায় ফেলে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। (১০ মে) রবিবার সকালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত প্রাক্তণ স্বামী হায়দার আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের শিকার রাশিদা বেগম ছয় সন্তানের জননী। দীর্ঘ বছর স্বামীর নির্যাতন সহ্য করার পর কিছুদিন আগে তিনি স্বেচ্ছায় স্বামীকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তবে তালাকের পরও ক্ষান্ত হননি হায়দার আলী।
(৯ মে) শনিবার দুপুরে বলদিয়া ইউনিয়নের গগন গ্রাম এলাকায় রাশিদার বাবার বাড়ির সামনে এসে তাকে সন্তানের সামনে প্রকাশ্যে বেদম মারধর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই রাশিদাকে প্রায়ই মারধর করতেন হায়দার আলী। সংসারে একে একে ছয়টি সন্তান জন্ম নিলেও কমেনি নির্যাতনের মাত্রা। রাশিদার বৃদ্ধ বাবা জীবিত থাকাকালে মেয়েকে রক্ষা করতে জামাইকে টাকা দিতেন। কয়েক বছর আগে তাঁর মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে যায় সেই আর্থিক সহায়তা। এরপর থেকেই নির্যাতন আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ পরিবারের।
ঘটনার দিন হায়দার আলী শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে কৌশলে রাশিদাকে রাস্তায় ডেকে এনে প্রকাশ্যে মারধর করেন। এ সময় ছোট্ট সন্তানটি বুকফাটা কান্নায় মাকে বাঁচানোর আকুতি জানালেও থামেনি নির্যাতন। সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
রাশিদার ভাই এনামুল হক বলেন, ‘আমার বোন জামাই একজন জুয়াড়ি। বহু সালিস করেও সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত বোন ডিভোর্স দেয়। কিন্তু ডিভোর্সের পরও আমাদের বাড়ির সামনে এসে এমন অমানুষিক নির্যাতন করেছে।’
বলদিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহীহ আহমেদ বলেন, ‘হায়দার আলী একজন অনলাইন জুয়াড়ি ও মাদকাসক্ত। দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য নির্যাতন করেছে। এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মামলার পর থেকেই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়। রবিবার সন্ধ্যার পরে তাকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশের একটি দল।
















