বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
উজিরপুরে শ্রমিকদল নেতা জিয়া আমিনের নেতৃত্বে সরকারি গাছ লুটের অভিযোগ ভোলায় ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ, গোডাউন সিলগালা ব্যাবসায়ী নাসিরের মামলা: পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আগামী বছরও ঈদুল ফিতরে ৫, আজহায় ৬ ও পূজায় ২ দিন ছুটি যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর হাত-পায়ের রগ কর্তন, প্রধান আসামি গ্রেফতার নিষেধাজ্ঞা শেষে ধরা পড়া ৯৫ শতাংশই ডিমওয়ালা ইলিশ ১৭ বছরেও পাননি বাবার সম্পদ, ৭ হাজার ৪৬১ কোটির দাবিতে গেলেন আদালতে ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে কবিরাজ গ্রেপ্তার এইচএসসির অকৃতকার্যদের পরীক্ষা শুরু ১ ডিসেম্বর ভোলা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান ওএসডি

দুলাভাই তো এমনিতেই শ্যালিকার অর্ধেক ভাগ পায়’- বাকেরগঞ্জের ওসি, ধর্ষণের ১১ দিন পর মামলা নিল পুলিশ

/ ৭৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি ।।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে সৎ ভাসুর ও চাচা শ্বশুরের বিরুদ্ধে বিয়ের ১৬-১৭ দিনের মাথায় ১৭ বছরের কিশোরী বধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৯ অক্টোবরের এ ঘটনায় বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের কাছে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই নববধূ।

বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের নির্দেশনা নিয়ে থানায় গেলেও প্রথমে মামলা গ্রহণ করেননি বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন। উলটো ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে বাদীকেই সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে ভয় দেখিয়েছেন। অবশেষে ঘটনার ১১ দিন পর শুক্রবার মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নে ওই কিশোরী বধূকে ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে বাজারে নিয়ে যান তার সৎ ভাসুর মো. ইমরান প্যাদা (৩৮)। পরে বাড়ি ফেরার পথে ইমরান ও প্রতিবেশী চাচা শ্বশুর রাকিব প্যাদা (২৬) তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাকে বাকেরগঞ্জ থানার ওসির কাছে পাঠানো হয়। তবে থানায় গিয়ে মামলা করতে না পেরে ফিরে আসেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওসি আদিল হোসেন তাকে বলেন, ‘আপনার কোনো প্রমাণ নেই। জামাকাপড়সহ গোসল করার কারণে প্রমাণ নষ্ট হয়ে গেছে। ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করতে না পারলে আপনারই সাত বছরের সাজা হবে।’ এছাড়া অভিযুক্ত ইমরানকে নিয়ে ‘দুলাভাই তো এমনিতেই শ্যালিকার অর্ধেক ভাগ পায়’-এমন আপত্তিকর মন্তব্য করে ওসি তার সঙ্গে মশকরা করেন বলেও ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী বলেন, বিচার চাইতে গিয়ে যদি পুলিশের কাছ থেকেই এমন কথা শুনতে হয়, তাহলে আদৌ বিচার পাব কি না, তা নিয়েই শঙ্কিত। ভুক্তভোগীর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে ওসি আদিল হোসেন বলেন, গত দুই-এক দিন আগে এক নারী তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। ধর্ষণের কোনো আলামত দেখাতে পারেননি। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে কিছুক্ষণ পর জানাবেন বলে চলে যান। এতে আমাকে দায়ী করে লাভ কি।

বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গণধর্ষণের ঘটনায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। ওসির মামলা না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি মামলা না নিয়ে উলটো ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com