বরগুনা প্রতিনিধি ।।
গত বছরের ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে পরিচিত বরগুনায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের শুরুতে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও আগস্টের শুরু থেকে নতুন রোগী শনাক্তের হার বেড়েছে। গত ১৪ দিনে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬৯১ জন। এর মধ্যে ৪ আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫০৪ জন। অর্থাৎ, মাত্র ১৪ দিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৭ জন। এতে আগের আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় রোগী বেড়েছে ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ।
এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আক্রান্ত ৬৯১ জনের মধ্যে ৬৪৮ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ১৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে বেতাগীতে একজন, পাথরঘাটায় পাঁচজন, বামনায় দুজন, আমতলীতে দুজন এবং তালতলীতে তিনজন রয়েছেন।
চলতি বছর বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩২২ জন। উপজেলা পর্যায়ে আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাথরঘাটা। সেখানে এখন পর্যন্ত ২০০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. আশিকুর রহমান বলেন, গত ১৪ দিনে রোগী কিছুটা বেড়েছে। তবে সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম ধরা হয়। সে তুলনায় এ বছর রোগীর সংখ্যা অনেক কম এবং সুস্থতার হারও বেশি। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অবস্থাও খুব খারাপ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, গত বছর সফলভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা থেকে এ বছর শুরু থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি রয়েছে। গত বছর জেলার বিভিন্ন উপজেলা কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন প্রায় ১০ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করা হয়েছে। এ বছরও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবিলায় কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর থেকেই আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। এ কারণে এ বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।