নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বরিশাল নগরীর যানজট নিরসনে ইজিবাইক বা ‘হলুদ অটো’র লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত তিন মেয়রের সময় দেওয়া ৭ হাজার ৬১০টি ইজিবাইকের অনুমোদনই বহাল থাকছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নবায়ন চলবে এবং ১ জুলাই থেকে অবৈধ ইজিবাইকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু হবে।
সিটি করপোরেশনের পরিবহন শাখা ও ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, করোনাকালের পর নগরীতে ইজিবাইকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। ট্রাফিক বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে নগরীতে প্রায় ২০ হাজার অনিবন্ধিত ও অনুমোদনহীন ইজিবাইক চলাচল করছে।
বরিশাল ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. শরফুদ্দিন বলেন, সহজ পেশা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি কম হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে অন্তত পাঁচটি করে নতুন ইজিবাইক নগরীতে নামছে। এসব পরিবহন কতগুলো চলবে, তা সিটি করপোরেশন নির্ধারণ করবে। তাদের অনুমোদিত তালিকা পেলে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
সিটি করপোরেশনের পরিবহন শাখার ব্যবস্থাপক মানিক জানান, ৩০ জুনের মধ্যে নবায়ন প্রক্রিয়া শেষ হলে ১ জুলাই থেকে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এবার ইজিবাইক মালিকদের নবায়ন ফি হিসেবে ৫ হাজার টাকা, ১৫ শতাংশ ভ্যাট (৭৫০ টাকা), ফরম ও ব্লু-বুক মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৯৫০ টাকা জমা দিতে হচ্ছে।
তবে সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগকে টেকসই সমাধান মনে করছেন না শ্রমিক নেতারা। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার নেতা ও শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের দেওয়া টোকেন দিয়ে যানবাহনের নিরাপত্তা বা চালকের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এসব পুরোনো টোকেন মূলত স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএ স্বীকৃত লাইসেন্স ছাড়া এসব পরিবহন নিরাপদ হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ইজিবাইকের সংখ্যা নির্ধারণ করতে চাইলে নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টোকেন দেওয়া উচিত।