নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
বরিশাল অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালেই গত একমাসে মরনঘাতি হাম ২৫ শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এসময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিশুকে। যারমধ্যে ৪,৪২৭ শিশু সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে গেছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে বরিশালের সরকারী হাসপাতালগুলোতেই হাম ও হাম সন্দেহে ৪৫ শিশুর মৃত্যু হলো। আর এ রোগ সন্দেহে হাসপাতালগুলোতে ৭ হাজার ৬৫২টি শিশু চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসার পরে ভর্তি করা হয়েছে ৭,২৬১টি শিশুকে। তবে হাসপাতালে ভর্তির পরে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে ৬,৭৫৭টি শিশু।
প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচীর সাফল্যজনক সমাপ্তির পরেও গত মাসেই বরিশাল অঞ্চলে হাম-রুবেলার সংক্রমন সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এ মরনঘাতি রোগ যেন বরিশালবাসীর পিছু ছাড়ছে না। তবে গত একমাসে হাম সন্দেহে মৃতদের মধ্যে এখনো কারো রক্তে হাম-রুবেলার ভাইরাস শনাক্ত হয়নি বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে।
অপরদিকে ইতোমধ্যে বরিশালের সরকারী হাসপাতালগুলোতে হাম সন্দেহে আগত শিশুর সংখ্যা প্রায় ৮ হাজারের কাছে পৌছার পাশাপাশি মৃত্যুর মিছিলও থামছে না। তবে সরকারী হাসপাতালের বাইরে কত শিশু হাম-রুবেলায় আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যুবরন করেছে, তার কোন হিসেব স্বাস্থ্য দপ্তরেও নেই। তবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, এপর্যন্ত যে ৭,৬৫২ সন্দেহভাজন হাম রোগী সরকারী হাসপাতালে এসেছে, তার মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২২৫। আর মৃত ৪৫ জনের মধ্যে হাম-রুবেলা শনাক্ত’র সংখ্যাটা গত একমাস ধরে ৩ জনই রয়েছে।
অপরদিকে ৩১ মে পর্যন্ত বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ এ অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে যে ৭,৬৫২ হাম সন্দেহভাজনকে ভর্তি করা হয়েছে, তার মধ্যে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ২,৮৪২। এ হাসপাতালের ৭০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে যে ৪ শতাধিক শিশু রোগী চিকিৎসাধীন থাকছে, তারমধ্যে হাম সন্দেহভাজনই দেড় শতাধিক। দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম এ সরকারী হাসপাতালটি থেকে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে ২,৬৬৭টি শিশু।
এদিকে গত ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলের ৪২ উপজেলার প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কেন্দ্রে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩৮টি শিশুর মধ্যে ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭২টি শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা প্রদান সম্ভব হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, লক্ষ্যমাত্রার ৯৮.৬০ ভাগ শিশুকে টিকা প্রদান সম্ভব হয়েছে। এর বাইরে বরিশাল অঞ্চলের ৪টি উপজেলা এবং দেশের ঝুকিপূর্ণ ৬টি স্থানের মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায়ও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচী সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত বরিশাল মহানগরীর ৯৯.৪৫ ভাগ শিশুকে হাম-রুবেলা প্রতিরোধী টিকা প্রদানের পাশাপাশি বরিশাল বিভাগে গড় টিকা প্রদানের হার ৯৮.৬% বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে।
কিন্তু টিকাদান কর্মসূচী সাফল্যজনকভাবে সম্পন্নের কুড়িদিন পরেও বরিশাল অঞ্চলে হামের সংক্রমন পরিস্থিতির কাংখিত উন্নতি লক্ষণীয় নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন। গত ১০ মে’র পরে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটছে। এখনো প্রতিদিনই গড়ে দেড়শ থেকে ১৬০ হাম সন্দেহ ভাজন রোগী বরিশালের সরকারী হাসপাতাল সমুহে লক্ষন নিয়ে আসছে।
এপ্রিল মাসেও বরিশালের ৪২ উপজেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে যে ২,৮১৬টি শিশু সরকারী হাসপাতালসমুহে আসে। তার মধ্যে ৫১ জনের শরিরে হাম সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এপ্রিল মাসে যে ১৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারমধ্যে ৩টি শিশু নিশ্চিত হামে মারা গেছে বলেও কতৃপক্ষ জানিয়েছেন। তবে মে মাসে মৃত ২৫ শিশুর মধ্যে কারো দেহে হাম-রুবেলার লক্ষণ শনাক্ত হয়নি।