বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
কুয়াকাটায় মাছ ধরার ট্রলারে হামলা-লুট, ১২ জেলে আহত ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আইনি নোটিশ ছাত্রকে দিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়নের অভিযাগে শিক্ষক রিপন বরখাস্ত প্রীতি জিনতার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন ব্রেট লি ফ্যাসিস্ট সরকার মেগা দুর্নীতিতে ব্যস্ত ছিল: প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর চুরি করতে এসে গৃহবধূর কামড়ে আঙুল হারাল চোর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক যুগ্ম সচিব গ্রেফতার নলছিটিতে দুই ফ্ল্যাটে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট চলে গেলেন ভারতীয় অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত রাতে কুকুরের আড্ডা, সকালে সেই খাট্টায় বিক্রি হচ্ছে মাংস!

যেভাবে দরুদ পড়লে জীবনে দুশ্চিন্তা কমে আসে

/ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

দরুদ শরিফ; যার সহজ অর্থ হলো আল্লাহর কাছে মহানবী (সা.)–এর প্রতি রহমত বর্ষণের দোয়া করা। দরুদ পাঠ করা আল্লাহর খুবই প্রিয় একটি আমল। এর মাধ্যমে আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়।

নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ করা আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠান। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠাও এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)

নবীজি নিজেও উম্মতকে দরুদের তাগিদ দিয়েছেন। বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিন আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করবে। কেননা তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়, ফেরেশতারা পৌঁছে দেন। যে কেউ দরুদ পড়ুক, ক্ষান্ত না হওয়া পর্যন্ত তা আমার নিকট পৌঁছাতে থাকে।’

এই হাদিস বর্ণনাকারী জানতে চাইলেন, আপনার ইন্তেকালের পরেও? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, ইন্তেকালের পরেও। আল্লাহ–তাআলা নবীদের দেহ গ্রাস করা জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। আল্লাহর নবী কবরে জীবিত এবং তাঁকে রিজিক দেওয়া হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬৩৭)

দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনের জন্য দরুদ পাঠ
দরুদ পাঠকারীর ওপর আল্লাহ–তাআলা সরাসরি রহমত বর্ষণ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, তিনি নবীজিকে বলতে শুনেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত নাজিল করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৮)

নিয়মিত দরুদ পাঠে মানুষের পাপ মোচন হয়, মানসিক দুশ্চিন্তা কমে এবং জীবনে প্রশান্তি আসে। সাহাবি উবাই ইবনে কাব (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আল্লাহর রাসুল, আমি তো খুব দরুদ পাঠ করি। দরুদ পাঠের জন্য আমি কতটা সময় নির্ধারণ করব?’

রাসুল বললেন, ‘তুমি যতটুকু চাও।’ উবাই একে একে এক-চতুর্থাংশ, অর্ধেক ও দুই-তৃতীয়াংশ সময়ের কথা বললে আল্লাহর রাসুল প্রতিবারই বললেন, ‘তুমি যতটুকু চাও, তবে এর চেয়ে বাড়াতে পারলে তোমারই কল্যাণ।’

শেষ পর্যন্ত উবাই যখন বললেন, ‘তাহলে আমার পুরো সময়টাই আপনার দরুদ পাঠে কাটিয়ে দেব?’ তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তাহলে এটি তোমার চিন্তা ও কষ্টের অবসানের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)

পরকালে নবীজির সান্নিধ্য
দরুদ পাঠের মাধ্যমে কেয়ামতের দিন নবীজির সবচেয়ে কাছাকাছি থাকার সৌভাগ্য অর্জিত হবে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন ওই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে, যে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৪৮৪)

বিশেষ করে জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা তাঁর একটি পবিত্র নির্দেশনা। বলেছেন, ‘তোমাদের দিনসমূহের মাঝে শ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে জুমার দিন। এদিন তোমরা বেশি বেশি করে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৩১)

এরপরও যারা এই নাম শুনে দরুদ পড়ে না, তিনি তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং তাদের ‘কৃপণ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক (ধ্বংস হয়ে যাক), যার কাছে আমার নাম উচ্চারিত হয় অথচ আমার ওপর দরুদ পাঠ করে না।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস: ২০৪২)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com