রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন
Logo

আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম সংক্রমণ, শিশু ওয়ার্ডে তীব্র চাপ

/ ৯৯ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

পিরোজপুর প্রতিনিধি ।।

পিরোজপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগটির বিস্তার বাড়ায় ১০০ শয্যার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ১৪ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৭০ জন শিশু রোগী। তাদের অধিকাংশই হাম আক্রান্ত। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াইশ। শিশু ওয়ার্ড ছাড়াও হাসপাতালের বাকি ৮৬ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছেন আরও প্রায় ১৬০ জন রোগী। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পিরোজপুরে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে আরও ১২ জন সন্দেহভাজন রোগী। পরীক্ষার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২০ জনের হাম রোগ নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১১ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে অনেক শিশু হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডে একাধিক রোগী এবং অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খাচ্ছেন।

হামে আক্রান্ত এক শিশুর মা সুমাইয়া বলেন, হাসপাতালে খুব ভিড়। তারপরও ডাক্তাররা চেষ্টা করছেন। আমার সন্তানকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

হাম আক্রান্ত শিশু কৌশিকের মা মৌমিতা বেগম বলেন, আমার ছেলের বয়স মাত্র ছয় মাস। পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এখন কিছুটা সুস্থ হয়েছে, তবে ডাক্তার বলেছেন আরও কয়েকদিন থাকতে হবে।

আরেক অভিভাবক মুক্তা বেগম বলেন, আমার ছেলে ইয়াসিনের বয়স সাত মাস। তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এখনো তেমন উন্নতি হয়নি।

নাজিরপুর উপজেলা থেকে আসা ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমার ছেলে আয়ানের বয়স সাড়ে চার বছর। প্রথমে নাজিরপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সদর হাসপাতালে এনেছি।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত জেলায় হাম আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কাউকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না।

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, হাম রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, কোনো শিশুর জ্বর, শরীরে র‌্যাশ বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। এর আগে গত ৫ এপ্রিল জেলায় ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদের জন্য বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com