নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বরিশাল নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের সাপানিয়া এলাকায় কাউনিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। এসময় দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের ২ সদস্যকে আটক করে পুলিশ। শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার চর্বারিয়া ইউনিয়নে সাপানিয়া এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো মেহেদী হাসান (২৫) এবং মো. আব্দুর রহমানকে (২৫)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের সাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান সৈকতের (৩২) মালিকানাধীন ঘেরে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
এসময় সৈকত পালিয়ে গেলেও তার দুই সহযোগী মেহেদী হাসান এবং আব্দুর রহমানকে আটক করে পুলিশ। এসময় তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী টিনের বসতঘরের অভ্যন্তরে থাকা একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে দুটি ধারালো ছোড়া, একটি হাসুয়া, দুটি ডেগার, পাঁচটি রামদা ও দুটি চাইনিজ কুড়ালসহ মোট ১৪টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন কাউনিয়া থানার নগরের পোল এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জসীম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে মো. মেহেদী হাসান ও ভাটিখানা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খলিল মৃধার ছেলে মো. আব্দুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানাযায়, সাপানিয়ার বাসিন্দা সৈকত তার মালিকানাধীন ঘেরটিকে একটি সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত করেছিল। সন্ধ্যা হলে সেখানে মাদকের আসর বসত এবং মাঝেমধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সের কিশোর গ্যাং থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী যুবকদের দেখা যায়। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কানাঘুষা চলতে থাকে। কেউ মুখ খুললে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকিসহ মাদক দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার কথা বলা হতো। এদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতেন না।
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী সৈকতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ৪টি মামলা চলমান রয়েছে। যা আদালতে বিচারাধীন। এই সন্ত্রাসী সেসব মামলায় জামিনে মুক্ত ছিলেন এবং তার অপরাধকর্ম চলমান ছিল।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিৎ নাথ জানান, বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হয়ে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এসময় সহযোগী দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হলেও পালিয়ে যান মূলহোতা ঘের মালিক সৈকত। কিন্তু আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হবে। সৈকতকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে, জানান ওসি।’