,

পটুয়াখালীতে মাদরাসায় শিক্ষার্থীকে বলাৎকার, অভিযুক্ত শিক্ষক আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ।। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এক মাদরাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার..

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ।।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এক মাদরাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ সফিকুল ইসলাম জিসানকে (২০) আটক করে পুলিশ। এর আগে একই দিনের দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব নেতা আকরামিয়া শিশু এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আকরামিয়া শিশু এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ সফিকুল ইসলাম জিসান রাতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিজের শয়নকক্ষে ডেকে নিয়ে যান। এরপর সেখানেই তাকে বলাৎকার করেন। বলাৎকারের পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে শিশুটি স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সকালে শিশুটি বাড়িতে এসে এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের জানায়। এ ঘটনার খবর আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে দুপুরে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জিসান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত ২৮ এপ্রিল ওই মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। নির্যাতনের শিকার শিশুটি মাদরাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র। তার বাড়ি উপজেলার জুগিরহাওলা গ্রামে।

শিশুটির বাবা বলেন, “ঘটনার পর আমার ছেলেকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হয়, যাতে সে বাড়িতে এসে কাউকে কিছু না বলে।”

শিশুটির মা বলেন, “আমার ছেলেকে নিরাপদ ভেবে মাদরাসায় পড়তে দিয়েছিলাম। কিন্তু হুজুরে এমন করে তা কে জানতো। আমি এই শিক্ষকের বিচার চাই।”

এদিকে শিক্ষক আটকের কিছুক্ষণ পরেই মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয়রা।

মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা চাই, আইনের মাধ্যমে তদন্ত করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। পাশাপাশি এই শিশুটির চিকিৎসার ব্যয়ভার আমরা বহন করব।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারকে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About the Author

Easy WordPress Websites Builder: Versatile Demos for Blogs, News, eCommerce and More – One-Click Import, No Coding! 1000+ Ready-made Templates for Stunning Newspaper, Magazine, Blog, and Publishing Websites.

BlockSpare — News, Magazine and Blog Addons for (Gutenberg) Block Editor

Search the Archives

Access over the years of investigative journalism and breaking reports