বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী জমে উঠেছে ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারার হাট বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভয়ঙ্কর তথ্য রূপ বদলাচ্ছে বর্ষা, হঠাৎ নামছে ভারী বৃষ্টি! মেয়েকে পরীক্ষার হলে দিয়ে মসজিদে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় পা বিচ্ছিন্ন বরিশাল ডেঙ্গুর বিস্তার, বদলে যাচ্ছে সংক্রমণের চিত্র! ভোলায় পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার স্নিগ্ধাকে নিয়ে মুখ খুললেন জেবা তাকিয়া, দিলেন একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য নামফলকেই ১৪ মাস পার, ববিতে হয়নি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়নি, তবে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন: সিইসি

বরিশাল ডেঙ্গুর বিস্তার, বদলে যাচ্ছে সংক্রমণের চিত্র!

/ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

পরপর দুই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পুরোপুরি শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন কলেজ শিক্ষার্থী পলাশ। বরগুনার বেতাগী থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে আনা হয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বারবার আক্রান্ত হয়ে পড়ার বিষয়ে বলতে গিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার মা। তিনি বলেন, রাস্তাঘাট তেমন ভালো না। ময়লা-আবর্জনা ও জমে থাকা পানির কারণে বরগুনার মানুষ বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে।

একই চিত্র পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির তরুণ মুরসালিনের ক্ষেত্রেও। ডেঙ্গুর থাবায় হাসপাতালের শয্যায় থাকতে হচ্ছে তাকে। অসুস্থতার কারণে বসতে পারেননি চলমান এইচএসসি পরীক্ষায়। পৌর শহরের বাসিন্দা হলেও এলাকায় কখনো নিয়মিত মশক নিধন কিংবা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ তার। মুরসালিন বলেন, আমাদের ওখানে মশা বেশি। কখনও ওষুধ দিয়ে মশা নিধন করতে দেখিনি।

পলাশ কিংবা মুরসালিনের মতো প্রতিদিনই অসংখ্য ডেঙ্গু রোগী ভিড় করছেন বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে। দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে এসে নানামুখী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

ভুক্তভোগীরা জানায়, হাসপাতালগুলোও খুব নোংরা। আবার বিভাগীয় শহরে এসে চিকিৎসা নিতে অনেক টাকা খরচ হয়। বড় শহরগুলোতে নামমাত্র মশক নিধন কর্মসূচি থাকলেও গ্রামীণ এলাকায় মশা মারার ন্যূনতম তৎপরতাও নেই। ফলে উপকূলীয় জেলাগুলোতে বছর বছর ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বরিশাল বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ হাজার ছাড়িয়ে যায় এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫ জন। ওই বছর বরগুনাকে ঘোষণা করা হয়েছিল ‘ডেঙ্গুর হটস্পট’। তবে চলতি বছর বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৩৮ জনে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এবার সংক্রমণের চিত্র বদলে সবচেয়ে বেশি রোগী মিলছে পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায়।

স্বাস্থ্য বিভাগের ১ জানুয়ারী থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুরে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৭ জন এবং ঝালকাঠিতে ৯৪৪ জন। এছাড়া বরিশাল জেলায় ৪৬৪ জন, বরগুনায় ৪১৪ জন, পটুয়াখালীতে ৪১৪ জন, ভোলায় ১৩২ জন এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরে ভর্তি হয়েছেন ১৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী। বিভাগের মোট পাঁচ মৃত্যুর মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এই হাসপাতালে।

সর্বশেষ ২৫ জুলাই রাতে ঝালকাঠি সদর উপজেলার রূপালী আক্তার (২৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগের দিন নলছিটি উপজেলার মুন্নি আক্তার (৩৫) মারা যান শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। ইতোমধ্যে বিভাগের হাসপাতালগুলো থেকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৩৯৫ জন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর গত বছরের জরিপে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি রয়েছে। ভৌগোলিক, সামাজিক ও পরিবেশগত কারণকে ডেঙ্গু বিস্তারের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে প্রশাসনের সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল মুনায়েম সাদ বলেন, বর্ষাকালে ডেঙ্গু রোগী বাড়া স্বাভাবিক। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট চারটি থেকে ছয়টিতে উন্নীত করা হয়েছে। পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড না থাকলেও প্রতিটি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু কর্নার চালু রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) পরিচালক ডা. লোকমান হাকিম বলেন, টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকরা সচেতন না হলে এডিস মশার বংশবিস্তার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পুরোপুরি সম্ভব নয়। মশক নিধনের ওষুধ মূলত সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলো ব্যবহার করে। এছাড়া অন্য কোথাও এ ধরনের কার্যক্রম খুব একটা দেখা যায় না। এবার আমরা দেখছি গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি হচ্ছে। তাই নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিকল্প নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষার আগেই কার্যকর ও সমন্বিত মশক নিধন কর্মসূচি গ্রহণ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে উপকূলীয় অঞ্চলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। বছরের পর বছর সংক্রমণের ধরন বদলে যাওয়াও সেই বাস্তবতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com