নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবীতে মাঠে নেমেছে বিএনপির দু:সময়ে আওয়ামীলীগের ঘনিষ্ঠ সহচর হয়ে মাঠে থাকা কিছু বিপদগামী নেতাকর্মীরা।এদের নেতৃত্বে আছেন বর্তমান সদর উপজেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সালাম রাঢ়ী। যারা এ সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি ভাঙতে মাঠে নেমেছে তারাই এক সময় এই সালাম রাঢ়ীর দল থেকে অব্যাহতি চেয়ে কেন্দ্রে চিঠি দিয়েছিলো।জানা গেছে, সালাম রাঢ়ী ও তার পুত্র রেজা রাঢ়ী বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সাথে প্রকাশ্যে সভাসমাবেশে অংশ নেন। তারা নৌকা মার্কার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সরাসরি কাজ করেছেন।সালাম রাড়ীর পুত্র রেজাউল করিম বিগত দিনে কোন আন্দোলন সংগ্রাম তো দুরের কথা ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পরও মাঠে ছিলেন না।সবশেষ ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী থেকে নিজেকে বিএনপি দাবী করা ব্যক্তি এখন কমিটি বাতিলের দাবীতে আন্দোলন করছে। তিনি নিজে চরমোনাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন।অন্যদিকে কমিটি বাতিল নিয়ে সরব ভুমিকায় থাকা জিয়াউল ইসলাম সাবু বিগত দিনে মানুষিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘদিন চিকিৎসারত রয়েছে। জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির পূর্বে যে আহবায়ক কমিটি ছিল সেই কমিটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের পরিপেক্ষিতে কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়া হয় এবং বিতর্ক এড়াতে নতুন আহবায়ক কমিটি সরাসরি কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমোদন দেয়া হয়।ঐ সময়ে বর্তমানে আন্দোলনকারী একাধিক নেতৃবৃন্দ বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সালাম রাঢ়ীকে ফ্যাসিষ্ট দোসর আখ্যা দিয়ে আন্দোলন করেছিলো। কিন্তু তারা সেই ফ্যাসিস্টকে সাথে নিয়েই বর্তমানে আন্দোলন করে আসছে। জানা গেছে,পুর্বে একটি মিছিলে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নেয়া হয়েছিল। গতকাল কমিটির বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে চরমোনাই ও রায়পাশা, নবগ্রাম এলাকা থেকে কিছু লোককে ফ্যামিলি কার্ড এর কথা ও নগদ অর্থের বিনিময়ে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাসন্তী রানী নামে চরমোনাই এলাকা থেকে মানববন্ধন কর্মসূচিতে আসা এক নারী জানান,তাকে বলা হয়েছে মানববন্ধন করলে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে,হনুফা খাতুন নামে এক নারী বলেন মানববন্ধন এ আসার জন্য ৩০০ টাকা পেয়েছি। কেন এবং কিসের মানববন্ধন তা তিনি বলতে পারেন না।আয়েশা নামে এক নারী জানান,মানববন্ধন এ আসলে সকল সরকারী সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে চেয়ারম্যান (সালাম রাঁড়ী)।তাই তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে অন্য লোকজনের সঙ্গে বরিশাল এসেছেন।
সকাল ১১ টার কিছু সময় পরে বরিশাল নগরীর টাউন হলের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনের নেতৃত্বে ঘোষিত কমিটিতে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধন এ উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক আহবায়ক এডভোকেট এনায়েত হোসেন বাচ্চু, বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুছ ছালাম রাড়ী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সাবু, সাবেক সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সেলিম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মন্টু খান, সাবেক ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম (রেজা রাড়ী) সহ সদর উপজেলার আরও কিছু নেতৃবৃন্দ।
এ প্রসঙ্গে আলাপকালে রেজাউল করিম(রেজা রাঢ়ী) জানান,ঘোষিত কমিটি তে ৭ জন আওয়ামীলীগ ও ২ জন প্রবাসী এবং ১ জন মৃত ব্যক্তি রয়েছে।আমরা এ কমিটির বিলুপ্তি চাই।এ সময় তাকে(রেজা রাঢ়ীকে)আওয়ামী সম্পৃক্ততার প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান,আমার পরিবার সবসময়েই বিএনপি।বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চরমোনাই এর হুজুরদের আধিপত্য ঠেকাতে আমরা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ-বিএনপি -জামায়াত এক হয়ে গিয়েছিলাম। এটা দলের সবাই জানে।এর বেশী মন্তব্য করতে রাজী হননি তিনি।