নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বরিশাল নভোথিয়েটার প্রকল্পের কাজ ৬ বছর পেরিয়ে ঠেকেছে ৭০/ ৮০শতাংশে। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই মেগা এই প্রকল্পটিতে জেঁকে বসেছে অনিয়ম। পুরো ভবনে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগই দেয়া হয়নি, অথচ এসির ডাক্টিং লাইন আর মেশিন বসিয়ে কোনো ধরনের টেস্টিং ও কমিশনিং ছাড়াই পুরো ১৩ কোটি টাকার বিল তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে, এমন কাজে সহযোগিতা ও সন্তোষজনক সনদ দিয়েছে গণপূর্ত অধিদফতর।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুবিশাল ভবনের ছাদের সিলিংয়ে স্থাপন করা হয়েছে এসির ডাক্টিং লাইন, বসানো হয়েছে এসির মেশিনও। আপাতদৃষ্টিতে কাজ সম্পন্ন মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। ভবনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এসি সচল হওয়া তো দূরের কথা, তা সচল আছে কি না, তা পরীক্ষা করারও কোনো সুযোগ নেই।
গণপূর্ত বরিশাল কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভবনে এসি সরবরাহ ও স্থাপনের দরপত্র পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারকন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’। ২০২৫ সালে তারা ভবনে এসি বসালেও, তা সচল না করেই ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তুলে নেয় ১৩ কোটি ১২ লাখ ৬০হাজার ৭৫৩ টাকার পুরো বিল।
গণপূর্তের তথ্য মতে, ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের কাজ ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ২০ শতাংশ কাজ বাকি রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া এবং যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পরীক্ষা (টেস্টিং ও কমিশনিং) না করে পুরো বিল তুলে নেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি সরকারি অর্থের সুস্পষ্ট অপচয় এবং বড় ধরনের অনিয়ম।’