নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
গত চার দিন ধরে বরিশাল অঞ্চলের নদ-নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে জোয়ারের সময় একের পর এক নদীর পানির উচ্চতা বিপৎসীমা অতিক্রম করছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বরিশালের ১২টি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম।
তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পাউবো কীর্তনখোলা, সুরমা, মেঘনা, বলেশ্বর, তেতুলিয়া, বিষখালী, তুলাতলি, টরকী, কচা, পায়রাসহ ১২টি নদীর ১৩টি পয়েন্টে পানির উচ্চতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত জোয়ারের সময় ৮টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তবে ভাটার সময় পানির স্তর আবার বিপৎসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে।
পাউবোর এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অমাবস্যার প্রভাবে আগামী আরও দুই দিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় পানির উচ্চতা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ড্রেনের মাধ্যমে শুক্রবার বিকেলে বরিশাল নগরের কয়েকটি সড়কে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. আনিচুর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো নিম্নচাপ বা লঘুচাপ নেই। তবে সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।