বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
কুয়াকাটায় মাছ ধরার ট্রলারে হামলা-লুট, ১২ জেলে আহত ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আইনি নোটিশ ছাত্রকে দিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়নের অভিযাগে শিক্ষক রিপন বরখাস্ত প্রীতি জিনতার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন ব্রেট লি ফ্যাসিস্ট সরকার মেগা দুর্নীতিতে ব্যস্ত ছিল: প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর চুরি করতে এসে গৃহবধূর কামড়ে আঙুল হারাল চোর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক যুগ্ম সচিব গ্রেফতার নলছিটিতে দুই ফ্ল্যাটে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট চলে গেলেন ভারতীয় অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত রাতে কুকুরের আড্ডা, সকালে সেই খাট্টায় বিক্রি হচ্ছে মাংস!

ভাঙা কংক্রিটে মরণফাঁদ, কুয়াকাটা সৈকতে বাড়ছে দুর্ঘটনা!

/ ৭৩ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

কুয়াকাটা প্রতিনিধি ।।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন স্থাপনার ভাঙা কংক্রিট, লোহার অংশ ও অবকাঠামোর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন পরিণত হয়েছে এক নীরব ঝুঁকির এলাকায়। সমুদ্র ভাঙনে বিলীন হওয়া বিভিন্ন স্থাপনার ভাঙা কংক্রিট, লোহার অংশ ও অবকাঠামোর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে। জোয়ারের সময় এসব কংক্রিট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। ইতোমধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত সিকদার রিসোর্টের ‘বিচ ক্লাব’ নামের একটি স্থাপনা ২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে সেই স্থাপনার ভাঙা কংক্রিট আজও অপসারণ করা হয়নি।

২০০৫ সালে জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে ঝাউবন এলাকায় ১ হাজার ৬১৩ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয় কুয়াকাটা ইকোপার্ক। পরে ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের উপকূলীয় ভাঙনে উদ্যানের বড় অংশ সমুদ্রগর্ভে হারিয়ে গেছে। বিলীন হওয়া স্থাপনাগুলোর টয়লেট, রান্নাঘর, টিউবওয়েল, গোলঘর, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ফটকের কংক্রিট অংশ এখনো সৈকত ও সমুদ্রের ভেতরে ছড়িয়ে আছে। অনেক স্থানে এসব বালুর নিচে চাপা পড়ে থাকলেও কিছু অংশ উপরে উঠে থাকায় তা সহজে চোখে পড়ে না।

স্থানীয় জেলে রাসেল মিয়া বলেন, জোয়ারের সময় ভাঙা অংশ গুলো আমরা দেখতে পাই না। জাল টানার সময় আঘাত পাই। প্রায় সময়ই হাত পা কেটে যায় কেউ।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির হোসেন বলেন, জোয়ারের সময় পুরো বিচ পানির নিচে ডুবে থাকে। তখন কোথায় কী আছে বোঝা যায় না। গত দুই বছর আগে মো. ইউনুস নামে এক মোটরসাইকেল চালক ভোর বেলা পর্যটক আনতে গিয়ে কংক্রিটে ধাক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আমরা চাই দ্রুত এসব অপসারণ করা হোক।

ঘুরতে আসা পর্যটক রায়হান বলেন, আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে গোসলে নেমেছিলাম। পানির নিচে থাকা কংক্রিটে একজন মাথায় আঘাত পেয়েছে। পুরো ভ্রমণের আনন্দটাই নষ্ট হয়েে গেছে। এমন ঝুঁকি থাকলে মানুষ এখানে আসতে ভয় পাবে।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, সমুদ্র ভাঙনে বিলীন হওয়া স্থাপনাগুলোর কংক্রিট ধীরে ধীরে বালুর নিচে চাপা পড়লেও পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। ভবিষ্যতে এগুলো আরও বিপজ্জনক ‘ট্র্যাপ’ এ পরিণত হতে পারে। এটি শুধু জননিরাপত্তার জন্য নয়, পরিবেশের জন্যও হুমকি।

বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার হামিদ জানান, সৈকতে পড়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ কংক্রিট অপসারণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অপসারণের জন্য ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com