নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
চার লাখ টাকা জরিমানা, প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান এবং বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ– কোনো কিছুতেই যেন থামানো যাচ্ছে না বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া সেতুর নিচের অবৈধ বালু উত্তোলন।
প্রশাসনের হাতে জব্দ হওয়ার পর জরিমানা পরিশোধ করে মালিকের জিম্মায় ফিরে যাওয়া একই সরঞ্জাম মাত্র ১১ দিনের মাথায় আবারও বালু উত্তোলনের সময় হাতেনাতে আটক হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দপদপিয়া সেতুর নিচে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানা। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বিসিজি স্টেশন বরিশাল দক্ষিণ জোনের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
তার নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে বালুবোঝাই দুটি বাল্কহেড ও একটি লোড ড্রেজার জব্দ করা হয় এবং চারজনকে আটক করা হয়।
জব্দ করা ড্রেজারটির নাম ‘রিফাজ জাহান ইকরা-১’।
এছাড়া প্রায় সাড়ে সাত হাজার ঘনফুট বালুবোঝাই জব্দ করা বাল্কহেড দুটির একটি হলো ‘এম-১’ ও অপরটি ‘এমবি জোবেদা’। অভিযানে আটকরা হলেন– বাল্কহেড চালক বাচ্চু এবং শ্রমিক আব্দুল জলিল, মো. লিটন ও হুমায়ুন।
এসময় অন্য কয়েকজন শ্রমিক পালিয়ে যান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে গত ২৬ অক্টোবরও একই স্থানে অভিযান চালিয়ে দুটি বাল্কহেড ও ড্রেজার জব্দ করেছিল প্রশাসন। সে সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। কিন্তু জরিমানা পরিশোধের পর জব্দ করা জলযানগুলো মালিকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মাত্র ১১ দিন পার হতে না হতেই গত ৫ নভেম্বর রাতে একই সরঞ্জাম আবারও নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের সময় পুনরায় জব্দ হয়।