বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
উজিরপুরে শ্রমিকদল নেতা জিয়া আমিনের নেতৃত্বে সরকারি গাছ লুটের অভিযোগ ভোলায় ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ, গোডাউন সিলগালা ব্যাবসায়ী নাসিরের মামলা: পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আগামী বছরও ঈদুল ফিতরে ৫, আজহায় ৬ ও পূজায় ২ দিন ছুটি যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর হাত-পায়ের রগ কর্তন, প্রধান আসামি গ্রেফতার নিষেধাজ্ঞা শেষে ধরা পড়া ৯৫ শতাংশই ডিমওয়ালা ইলিশ ১৭ বছরেও পাননি বাবার সম্পদ, ৭ হাজার ৪৬১ কোটির দাবিতে গেলেন আদালতে ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে কবিরাজ গ্রেপ্তার এইচএসসির অকৃতকার্যদের পরীক্ষা শুরু ১ ডিসেম্বর ভোলা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান ওএসডি

আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ হতে পারে ডেঙ্গু, উচ্চ ঝুঁকিতে বরিশাল-ঢাকা-চট্টগ্রাম

/ ১৬১ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় ব্যাপকহারে এডিস মশার বংশবিস্তারের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মৌসুমে ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগ। অধিকাংশ জেলায় এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বেশি থাকায় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

দেশে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু মৌসুম। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

এদিকে হাসপাতালগুলোতেও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। তীব্র জ্বর, শরীরব্যথাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেকেই। পরীক্ষায় তাদের বেশিরভাগেরই ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। একজন রোগী বলেন, প্রথমে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। এরপর জ্বর আসে। টানা তিন দিন ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর ছিল।

আরেকজন রোগী জানান, প্রথমে এক-দুই দিন ভেবেছিলাম ওষুধ খেলেই ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু পরদিন আবারও একই অবস্থা হওয়ায় হাসপাতালে আসতে হয়েছে।

এবারের ডেঙ্গু মৌসুম নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরাও। কীটতত্ত্ববিদ ও মশা গবেষকদের মতে, দেশের অধিকাংশ জেলায় মশার লার্ভা ইনডেক্স ২০-এর বেশি। ফলে আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের যেকোনো এক মাসে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলা।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, কোনো এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স ২০ বা তার বেশি হলে সেখানে এডিস মশাবাহিত রোগ, বিশেষ করে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। মডেল প্রেডিকশন অনুযায়ী, আগস্ট অথবা সেপ্টেম্বরের যেকোনো এক মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ ব্যাপক হতে পারে। বিশেষ করে বরিশাল বিভাগের জেলাগুলো, চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা এবং ঢাকার আশপাশের গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও কুমিল্লা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

তবে এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতি নিলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।

অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার আরও বলেন, সবচেয়ে জরুরি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম জোরদার করা। এখনই যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

গত বছরও কয়েকটি বিভাগে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ দেখা গিয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছিল বরিশাল বিভাগ, আর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। এবারও পরিসংখ্যান প্রায় একই ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বরিশাল বিভাগে, আর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com