নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বরগুনার বামনা উপজেলার অযোধ্যা গ্রামে সাইফুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবককে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী সুমাইয়ার বিরুদ্ধে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত সাইফুল ইসলাম অযোধ্যা গ্রামের আইয়ুব আলী হাওলাদারের নাতি। প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার রাতে সাইফুলকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে তার স্ত্রী সুমাইয়া বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
সাইফুলের চাচাতো ভাই রিপন জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে সাইফুল ও তার স্ত্রী খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে শনিবার সকালে সাইফুলের চাচা স্বপনের ডাকচিৎকার শুনে তারা বিষয়টি জানতে পারেন।
তিনি জানান, সকালে সাইফুলের দাদা আইয়ুব আলী হাওলাদার বাড়িতে এসে নাতিকে ডাকাডাকি করেন। এ সময় সাইফুলের স্ত্রীকে ঘরে না পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি ঘরে প্রবেশ করেন। পরে সাইফুলকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
স্থানীয়রা জানান, আইয়ুব আলী হাওলাদারের দুই ছেলে স্বপন ও রিপন পরিবার নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। বাড়ির একটি ঘরে সাইফুল ও তার স্ত্রী থাকতেন।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুমাইয়ার সঙ্গে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সম্পর্ক ছিল। এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তাদের ধারণা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুমাইয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে বামনা থানা পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক হোসেন খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।