নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ভোক্তাদের বাড়তি দামের চাপ সামলাতে না সামলাতেই নতুন অভিযোগ—তেল দেওয়ার সময় মাপেও গরমিল! এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশালের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার পর বরিশাল নগরী ও বাবুগঞ্জ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুজ ভৌমিক পিয়াসের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ফিলিং স্টেশনগুলোর মাপযন্ত্র পরীক্ষা করা হয়।
অভিযানে গড়িয়ারপাড় এলাকার মেসার্স সারা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল পরিমাপে অনিয়ম ধরা পড়ে। মাপে কম-বেশি দেওয়ার অভিযোগে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ৪৬ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
শুধু জরিমানা করেই শেষ হয়নি ব্যবস্থা। ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. জয়কে মাপযন্ত্রের ত্রুটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অর্থাৎ তেল বিক্রির মেশিন ঠিক না করা পর্যন্ত অনিয়মের ঝুঁকি থাকছে—এমন বার্তাই দিয়েছে প্রশাসনের অভিযান।
এরপর বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জ এলাকার কামিনী ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। সেখানেও জ্বালানি তেল পরিমাপে অনিয়ম পাওয়ায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. সোহেলকে সতর্ক করা হয়।
তবে নগরীর কাশিপুর এলাকার রাব্বি ফিলিং স্টেশনে একইভাবে মাপযন্ত্র পরীক্ষা করে কোনো গরমিল পাওয়া যায়নি। পরিমাপ সঠিক থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনো জরিমানা করা হয়নি।
অভিযানকালে বাবুগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান এবং পরিদর্শক আলামিন সরকার উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে জ্বালানি তেল পরিমাপে কম দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।