বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
‘র‍্যাব’ বিলুপ্ত করে আসছে ‘এসআরবি’ আইসিইউতে হাতকড়া পরা ছবি ভাইরাল: আওয়ামী লীগ নেতা মনির খানের মৃত্যু বিএনপির সভায় আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা চরফ্যাশনে বিদ্যুতায়িত হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ‘হলুদ সোনালি বাটা’ দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বের জেরে হামলা: প্রাণ গেল মেয়ে জামাইয়ের, স্ত্রীসহ আহত পাঁচজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে রিকশাচালক গ্রেফতার ‘এদের মারো না কেন?’: ওবায়দুল কাদেরের কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট : ইসি আলেকান্দা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ‘হলুদ সোনালি বাটা’

/ ২ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

কলাপাড়া প্রতিনিধি ।।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে ‘হলুদ সোনালি বাটা’ (Yellow Goatfish) নামে একটি সামুদ্রিক মাছ। স্থানীয়ভাবে মাছটি ‘সোনালি বাটা’ বা ‘তোতা বাটা’ নামেও পরিচিত।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এটি পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আলিপুর মৎস্য বন্দরে আনা হয়। মাছটির উজ্জ্বল হলুদ-সোনালি রং ও আকর্ষণীয় গড়ন দেখে স্থানীয় জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। পরে মাছটি আলিপুর মৎস্য বন্দরের মায়ের দোয়া ফিস গদিতে নেওয়া হলে সেটি দেখতে ভিড় করেন অনেকে।

এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে এফবি জারিফ-৪ নামের একটি মাছধরা ট্রলারে মাছটি ধরা পড়ে।

জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় আসাদ মাঝির জালে মাছটি উঠে আসে। অন্য মাছের তুলনায় এর রং ও গঠন আলাদা হওয়ায় এটি নিয়ে জেলেদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়।

 

ট্রলারটির মাঝি আসাদ বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় মাছটি আমাদের জালে উঠে আসে। এর রং ও গঠন অন্য মাছের চেয়ে আলাদা। বন্দরে আনার পর অনেক মানুষ মাছটি দেখতে আসেন।

মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, এত সুন্দর রঙের মাছ আগে কাছ থেকে দেখিনি। তাই খবর পেয়ে দেখতে এসেছি। তবে মাছটি অনেক ছোট।

আরেক দর্শনার্থী মো. সোহেল মিয়া বলেন, কুয়াকাটার গভীর সমুদ্রে মাঝেমধ্যেই নতুন নতুন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। এগুলো সংরক্ষণ ও গবেষণার আওতায় আনা প্রয়োজন।

 

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, হলুদ সোনালি বাটা (Upeneus sulphureus) বা গোটফিশ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরে পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছ। এটি স্থানীয়ভাবে সোনালি বাটা বা তোতা বাটা নামেও পরিচিত।

তিনি বলেন, মাছটির থুতনির নিচে থাকা দুটি শুঁড় (barbels) দিয়ে সমুদ্রের তলদেশের বালি ও কাদা খুঁড়ে খাবার সংগ্রহ করে। এর মাধ্যমে সমুদ্রতলের পুষ্টি উপাদানের পুনঃচক্রায়নে ভূমিকা রাখে মাছটি। ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায়ও এর গুরুত্ব রয়েছে।

বখতিয়ার রহমান আরও বলেন, স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি শুঁটকি শিল্পেও এই মাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। মানুষের জন্য এটি পুষ্টিকর প্রাণিজ প্রোটিনেরও একটি উৎস।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, হলুদ সোনালি বাটা বাংলাদেশের উপকূলীয় ও সামুদ্রিক এলাকায় পাওয়া যায়। পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই মাছটি গুরুত্বপূর্ণ। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের প্রজাতির সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com