বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
আইসিইউতে হাতকড়া পরা ছবি ভাইরাল: আওয়ামী লীগ নেতা মনির খানের মৃত্যু বিএনপির সভায় আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা চরফ্যাশনে বিদ্যুতায়িত হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ‘হলুদ সোনালি বাটা’ দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বের জেরে হামলা: প্রাণ গেল মেয়ে জামাইয়ের, স্ত্রীসহ আহত পাঁচজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে রিকশাচালক গ্রেফতার ‘এদের মারো না কেন?’: ওবায়দুল কাদেরের কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট : ইসি আলেকান্দা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস পালিত বরগুনায় বন্দীকে গ্রেপ্তারের আবেদন, তদন্ত কর্মকর্তার শাস্তি

‘এদের মারো না কেন?’: ওবায়দুল কাদেরের কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে

/ ৩০ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

জুলাই আন্দোলনে ছাত্রজনতার ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সরাসরি উসকানি ও নির্দেশনার একটি কল রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই অডিও রেকর্ডটি উপস্থাপন করা হয়। ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে এই প্রমাণ দাখিল করা হলো।

প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালকে জানায়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানকে ফোন করেন।

রেকর্ড হওয়া সেই কথোপকথনে ওবায়দুল কাদেরকে সাদ্দামের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘এদের মারো না কেন?’ জবাবে সাদ্দাম বলেন, ‘পুলিশ মুখোমুখি হতে নিষেধ করেছে।’

প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এই নির্দেশনার পরেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে সহিংস হামলা চালাতে আরও উজ্জীবিত হন।

 

গত ৪ আগস্ট এই মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত এই অপরাধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটি ছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’ বা পরিকল্পিত অপরাধ।

আদালতে প্রসিকিউশন আরও উল্লেখ করে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ সম্বোধন করার পর ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।

 

এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।

মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গত ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা আন্দোলন দমনে প্ররোচনামূলক বক্তব্য, সহিংস হামলার পরিকল্পনা এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখে দেশজুড়ে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com