সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন
Logo

বরগুনায় কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ

/ ১৫ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

বরগুনা প্রতিনিধি ।।

বরগুনা সদর উপজেলায় এক প্রবাসীকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী, কথিত পরকীয়া প্রেমিক, মেয়ে ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসী আপাং সিকদারের লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সদর উপজেলার পুরাকাটা মহাসড়কের চালিতাতলা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কথিত ‘পরকীয়া প্রেমিক’ হাসান পালিয়ে গেলেও স্থানীয়দের হাতে আটক হন নিহত আপাংয়ের স্ত্রী, কন্যা, শাশুড়ি ও শ্যালক। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করলেও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা গাড়ির মধ্যেই ঘিরে রেখে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা।

অবরোধকারীরা বলেন, আপাং সিকদার দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে ছিলেন। সেখানে থেকে তিনি প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা তার স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকার কোনো হিসাব দিতে পারছিলেন না তার স্ত্রী।

তারা আরও জানান, নিহত আপাংয়ের স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী হাসানের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি আপাং জানতে পারলে পরিবারে নানা বিরোধের সৃষ্টি হয়। টাকা-পয়সা ও জমিজমা নিয়েও বেশ কিছুদিন ধরে ঝগড়াঝাঁটি চলছিল। পরে গত ১৫ জুলাই হাসান ও তার স্ত্রী মিলে আপাংকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অবরোধকারীদের দাবি, একজন নির্দোষ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাই প্রশাসন সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ তুলে নেবেন না।

নিহতের বোন নুরজাহান বলেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী রাবেয়া ও তার পরকীয়া প্রেমিক হাসান মিলে আমার ভাইকে বেধড়ক মারধর করে। পরে যখন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায়, তখন মুখে বিষ ঢেলে দেয়। এরপর হাসপাতালে নিয়ে বাঁচানোর নাটক করে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার এবং অপরাধীদের ফাঁসি চাই।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, গত ১৫ জুলাই আপাং সিকদার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাকে হত্যা করা হয়েছে—এমন দাবিতে স্থানীয়রা বরগুনা-পুরাকাটা মহাসড়কের চালিতাতলা এলাকায় সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তিনি আরও বলেন, নিহতের স্বজনরা কোনো অভিযোগ করলে তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com