সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
Logo

বিড়ালের মাধ্যমে মিলল ক্যান্সার জয়ের নতুন সূত্র

/ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

গৃহপালিত বিড়ালের ক্যানসার নিয়ে আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় মানুষের ক্যানসারের সঙ্গে বিস্ময়কর মিল খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে একই সঙ্গে মানুষ ও বিড়ালের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

বহু বছর ধরে পশুর ক্যানসার নিয়ে গবেষণা করছেন ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজশায়ারের ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী লুইস ভ্যান ডার ওয়েডেন। তার ভাষায়, বিড়ালের ক্যানসার এতদিন গবেষকদের কাছে ছিল এক ধরনের ‘ব্ল্যাক বক্স’ বা অজানা ক্ষেত্র। কারণ এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জিনগত তথ্য ছিল না।

এই পরিস্থিতি বদলাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের নিয়ে একটি দল প্রায় ৫০০টি গৃহপালিত বিড়ালের টিউমার নমুনা বিশ্লেষণ করে। তাদের গবেষণার ফল গত ফেব্রুয়ারিতে বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সে প্রকাশিত হয়।

গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, মানুষ ও বিড়ালের ক্যানসারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জিনগত মিল রয়েছে। বিশেষ করে ‘এফবিএক্সডব্লিউ-৭’ নামের একটি টিউমার-দমনকারী জিন উভয় প্রজাতির ক্যানসারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিড়ালের স্তন ক্যানসারে এ জিনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়, যা মানুষের স্তন ক্যানসারের আগ্রাসী রূপের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

ভ্যান ডার ওয়েডেন বলেন, “এটি একটি অনন্য সুযোগ। এর মাধ্যমে একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন প্রজাতির ক্যানসারের চিকিৎসা উন্নয়নে কাজ করা সম্ভব।”

গবেষণার সহ-লেখক এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব গুয়েলফের ভেটেরিনারি প্যাথলজিস্ট জেফরি উডও এই আবিষ্কারকে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, গবেষণাটি মানুষ ও বিড়াল—উভয়ের জন্যই উপকারী হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জিনগত দিক থেকে মানুষের সঙ্গে বিড়ালের মিল কুকুর, গরু বা ইঁদুরের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি গৃহপালিত বিড়াল ও তাদের মালিক একই পরিবেশে বসবাস করায় তারা প্রায় একই ধরনের ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানের সংস্পর্শে আসে। ফলে মানুষের রোগ সম্পর্কে ধারণা পেতেও বিড়াল গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার মডেল হয়ে উঠতে পারে।

এতদিন ক্যানসার গবেষণায় কুকুরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। কারণ কুকুরের শরীরে ক্যানসার তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং চিকিৎসা পরীক্ষার ফলও দ্রুত পাওয়া যায়। বিশেষ করে হাড়ের ক্যানসার ‘অস্টিওসারকোমা’ নিয়ে গবেষণায় কুকুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নতুন গবেষণার জন্য অস্ট্রিয়া, কানাডা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের গৃহপালিত বিড়ালের ক্যানসার টিস্যু সংগ্রহ করা হয়। গবেষকেরা ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট মানুষের জিনের সমতুল্য প্রায় এক হাজার বিড়াল জিন বিশ্লেষণ করেন।

ফলাফলে শুধু স্তন ক্যানসার নয়, বরং রক্ত, হাড়, ফুসফুস, ত্বক, পরিপাকতন্ত্র এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও মানুষ ও বিড়ালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া যায়।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ‘ভিনক্রিস্টিন’ নামের কেমোথেরাপি ওষুধ বিড়ালের স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে। উল্লেখ্য, বিড়ালের মধ্যে স্তন ক্যানসার তৃতীয় সর্বাধিক সাধারণ ক্যানসার এবং এটি প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়।

জেফরি উড বলেন, “আগে আমরা জানতাম না কোন ওষুধ কার্যকর হতে পারে। এখন অন্তত আমাদের কাছে সম্ভাব্য ওষুধের একটি তালিকা আছে, যা নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা সম্ভব।”

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই আবিষ্কার আশাব্যঞ্জক হলেও মানুষের ক্যানসার চিকিৎসায় এর পূর্ণ প্রভাব বুঝতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক জেইমি মোদিয়ানোর ভাষায়, “হাজার মাইলের যাত্রায় এটি কেবল প্রথম পদক্ষেপ মাত্র।”

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com