অনলাইন ডেক্স ।।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে আপাতত বড় ধরনের ওঠানামা নেই। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও বিনিয়োগকারীরা বড় সিদ্ধান্ত নিতে অপেক্ষা করছেন। কারণ, সোনার দাম আগামী দিনে বাড়বে নাকি কমবে, তার বড় ইঙ্গিত মিলতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে।
চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া একাধিক কর্মসংস্থান প্রতিবেদন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার–সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেবে। আর সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করতে পারে, আগামী দিনে সোনার দাম বাড়বে নাকি কমবে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ চাকরির তথ্য?
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার–সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ হবে। মঙ্গলবার চাকরির শূন্যপদের তথ্য, বুধবার এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং শুক্রবার প্রকাশ করা হবে বহুল আলোচিত নন-ফার্ম পেরোলস (Nonfarm Payrolls)।
বিনিয়োগকারীদের ধারণা, এসব তথ্য থেকে বোঝা যাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে ফেড সুদের হার বাড়াবে, নাকি বর্তমান অবস্থান বজায় রাখবে, সে বিষয়েও মিলবে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
চাকরির বাজার দুর্বল হলে কী হবে?
মুম্বাইভিত্তিক কেদিয়া কমোডিটিজের পরিচালক অজয় কেদিয়ার মতে, বর্তমানে সোনার বাজার একটি সমন্বয় পর্যায়ে রয়েছে।
সোনা কিনে লাভবান হওয়ার উপায়
তিনি বলেন, শ্রমবাজারে দুর্বলতার লক্ষণ দেখা গেলে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে সোনার দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
অন্যদিকে, শ্রমবাজার শক্তিশালী থাকলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও জোরালো হতে পারে। আর উচ্চ সুদের হার সাধারণত সোনার দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রভাব ফেলছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তেহরানের সামনে একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘শেষ সুযোগ’ রয়েছে।
সোনা কেন কিনে রাখবেন?
তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা জ্বালানির দাম বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে।
যদিও মূল্যস্ফীতির সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে, তবে সুদের হার বেড়ে গেলে সেই সুবিধার একটি অংশ কমে যায়।
সোনার দাম বাড়বে না কমবে?
আগামী সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে এই প্রত্যাশা কমে গেলে সোনার দামে নতুন ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আজ বিশ্ববাজারে সোনার ভরি কত?
অন্যদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি জানিয়েছে, আগামী এক মাস সোনার দাম স্থির থাকতে পারে অথবা কিছুটা কমতে পারে। তবে চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলার এবং আগামী বছরের প্রথমার্ধে পাঁচ হাজার ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।