শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন
Logo

মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার অর্থ আত্মসাৎ, ডিএনসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

/ ২২ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার অর্থ জব্দ হিসেবে না দেখিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত ২০ মে বরিশাল শহরের চরমোনাই ট্রলারঘাট এলাকার একটি বাসায় হানা দিয়ে বেবি আক্তার নামের এক নারীকে আটক করাসহ নগদ ২৭ হাজার টাকা উদ্ধার করে বিভাগীয় গোয়েন্দা অফিসের এএসআই দিপঙ্কর মন্ডলের নেতৃত্বধীন টিম। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, একদিন বাদে ২১ মে ওই নারীকে মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করে গাঁজার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও নগদ ওই অর্থ জব্দ তালিকায় রাখেনি ডিএনসি কর্মকর্তারা। এর আগে একই মামলায় নারীর স্বজনদের গ্রেপ্তার দেখানোর ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও ২১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন এএসআই দিপঙ্কর মন্ডল এবং ফারুক হোসেনসহ অভিযানিক টিমের সদস্যরা। বরিশাল ডিএনসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন একটি গুরুতর অভিযোগ এনে এর প্রতিকার মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন বেবি আক্তারের বোন তানিয়া বেগম।

অভিযোগে তানিয়া আক্তার উল্লেখ করেন, গত ২০ মে রাত ১১টার দিকে বরিশাল মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিভাগীয় অফিসের গোয়েন্দা টিমের সদস্য এএসআই দিপঙ্কর মন্ডলের নেতৃত্বে শহরের চরমোনাই ট্রলারঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। একপর্যায়ে তারা সেখানকার বাসিন্দা বেবি আক্তারের বাসায় হানা দিলে তাকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করেন। এবং বাসাটিতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ২৭ হাজার টাকা উদ্ধার করে তাসহ বেবি আক্তারকে ভাটিখানাস্থ ডিএনসির কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পাশাপাশি স্বজনদের পরবর্তীতে কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ডিএনসি কর্মকর্তা এএসআই দিপঙ্কর মন্ডলের কথা অনুযায়ী রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেবি আক্তারের মা, মামাতো বোন পপি আক্তার, ভাগনি সুমাইয়া কার্যালয়টিতে গেলে তাদের আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। নতুবা বেবি আক্তারের সাথে স্বজনদেরও এই মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখান এএসআই দিপঙ্কর মন্ডলসহ টিমের অপরাপর সদস্যরা। এতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই তানিয়া আক্তার তার কানের দুল বন্ধক রেখে নগদ ২১ হাজার টাকা এএসআই দিপঙ্কর মন্ডলের হাতে তুলে দেন। পরে তাদের সকলকে ছেড়ে দিয়ে একদিন বাদে ২১ মে বেবি আক্তারকে এক কেজি গাঁজাসহ কোতয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করে এবং এই ঘটনায় একটি মামলা করে ডিএনসি।

তানিয়া আক্তারের অভিযোগ, ২০ মে রাতে ডিএনসি কার্যালয়ে এই দেনদরবারের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় বেবি আক্তারকে অন্যত্র স্থান থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তবে উদ্ধার অর্থ আত্মাসাৎ এবং বেবি আক্তারের স্বজনদের ফাঁসানোর ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযানিক টিমের প্রধান এএসআই দিপঙ্কর মন্ডল। মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এ ঘটনায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি, বেবি আক্তারকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। এবং তার বিরুদ্ধে সেই মামলা দিয়ে কোতয়ালি পুলিশে সোপর্দ করা হয়ছে। এই বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তানভীর হোসেন খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

তানিয়া আক্তারের অভিযোগ, ডিএনসির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন, কিন্তু প্রতিকার পাননি। শেষে বাধ্য হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ করে বিচার চেয়েছেন। মহাপরিচালক এখন বিষয়টিতে কি ব্যবস্থাগ্রহণ করেন, সেটাই দেখার অপেক্ষা।’

এদিকে অপর একটি সূত্র জানায় শুধু তানিয়াই নয় এরকম বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। প্রায় সময় এখানকার কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকা বিনিময় আসামি আটক করে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে আসামি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আসামি না নিয়ে সামনে দোকানে বসে দেন দরবার করে আসামি ছেড়ে দিচ্ছেন। নিজেদের এসব অপরাধ থাকতে মাঝে মধ্যে লোক দেখানো দুই একটা অভিযান পরিচালনা করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com