নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বরিশালের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে দুটি দূরপাল্লার বাস কাউন্টারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট)। তবে অভিযান চলাকালেই বিআরটিএ’র এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কাউন্টার ম্যানেজারের সরাসরি আঙুল তুলে অবৈধ বাসের ব্যবসা ও মাসিক মাসোহারা নেয়ার বিস্ফোরক অভিযোগে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চরম উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
সোমবার (১লা জুন) দুপুর দেড়টার দিকে নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুপুরে মাঠে নামে মোবাইল কোর্ট।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, বরিশাল থেকে ঢাকা রুটের সরকার নির্ধারিত বাস ভাড়া ৫৯০ টাকা হলেও ‘হানিফ পরিবহণ’ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১১০ টাকা বেশি আদায় করছে। এই অপরাধে হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আহম্মদ খানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই সময়ে একই অপরাধে ‘গোল্ডেন লাইন পরিবহণ’ এর কাউন্টার ম্যানেজার মোহাম্মদ আনিসুর রহমানকেও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযান চলাকালে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জরিমানা আদায়ের সময় গোল্ডেন লাইন পরিবহণের ম্যানেজার আনিসুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাথে থাকা বিআরটিএ (BRTA) কর্মকর্তা সৌরভ সাহার বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন।
ম্যানেজার আনিসুর রহমান বলেন, এই মোবাইল কোর্ট টিমের সাথে থাকা বিআরটিএ কর্মকর্তা সৌরভ সাহার নিজেরই ৭টি যাত্রীবাহী বাস রয়েছে। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে কীভাবে পর্দার আড়ালে বাসের ব্যবসা পরিচালনা করেন? ওনার নিজের গাড়িগুলোতে কখনো কোনো জরিমানা করা হয় না। এছাড়া সৌরভ সাহা নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডের বড় বড় পরিবহণগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক মাসোহারা (ঘুষ) আদায় করে থাকেন।
অভিযোগে আরও জানানো হয়, বিআরটিএ কর্মকর্তা সৌরভ সাহার মালিকানাধীন বাসগুলো মহাসড়কে মূলত ‘হাওলাদার’ ব্যানারে চলাচল করে থাকে।
একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মোবাইল কোর্টের সামনেই এমন গুরুতর ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় সেখানে উপস্থিত সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় জনসাধারনের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও গুঞ্জন তৈরি হয়। অনেকেই বিআরটিএ’র এমন ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
এই ঘটনার পর দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে মোবাইল কোর্ট টিম নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা ত্যাগ করে। বর্তমানে ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যান চলাচল সচল আছে। তবে বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন পরবর্তীতে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই নজর রাখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।