শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করলো ভারত শহীদ জিয়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি ফুটবলারের মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকা, কে তিনি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ১৭ বছরের রুদ্ধশ্বাস বন্দিদশা পেরিয়ে ফিরল শহীদ জিয়ার মুক্ত স্মরণ বরিশালে বাড়ছে এইডস রোগী, আক্রান্তদের বড় অংশ তরুণ জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা: রাষ্ট্রপতি ঈদ উদযাপন নিয়ে জয়ার আক্ষেপ রাতেই শুরু হচ্ছে হজ যাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট ১০ নম্বর জার্সির রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন মেসি

১৭ বছরের রুদ্ধশ্বাস বন্দিদশা পেরিয়ে ফিরল শহীদ জিয়ার মুক্ত স্মরণ

/ ৩০ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

ক্যালেন্ডারের পাতায় মে মাসের শেষ দিকটা এলেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতাকর্মীদের বুকে এক অদ্ভুত হাহাকার আর চাপা আতঙ্ক ভর করত। ৩০ মে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী।

যে মানুষটির ডাকে একদিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া মুখরিত হতো, যার স্মরণে লাখো মানুষের ঢল নামত রাজপথে, বিগত দেড় যুগ ধরে সেই মানুষটির মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে গিয়েও বিএনপি নেতাকর্মীদের গুনতে হয়েছে চরম মাশুল।
মামলা, হামলা, হুলিয়া আর চিরুনি অভিযানের আতঙ্কে গত ১৭ বছর ধরে ঠিকমতো ঘরের বাইরে বের হতেই পারেননি দলটির সর্বস্তরের কর্মীরা।

কাঙালি ভোজের ডেকচি উল্টে দেওয়া, মিলাদ মাহফিলের মাঝখান থেকে পুলিশি গ্রেপ্তার, আর কালো ব্যাজ ধারণ করায় ‘নাশকতা’র মামলা-এমন এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে দলটিকে।
তবে সময়ের চাকা ঘুরেছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর, দীর্ঘ নির্বাসন ও আইনি লড়াই শেষে দেশে ফিরে দলের হাল ধরেছেন শহীদ জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান। আজকের বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক সময়ের অবরুদ্ধ বিএনপি আজ মুক্ত বাতাসে, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এবং বিশাল আয়োজনে পালন করছে তাদের প্রিয় নেতার মৃত্যুবার্ষিকী। অতীতের সেই অবরুদ্ধ দিন আর বর্তমানের গৌরবোজ্জ্বল উৎসবের পটভূমি নিয়ে বাংলানিউজের এই বিশেষ আয়োজন।

এক যুগে দেড় লাখ মামলা; ঘরছাড়া, গ্রামছাড়া এক দল

বিএনপির দলীয় সূত্র এবং সম্প্রতি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা করা হয়েছে। যেখানে আসামির সংখ্যা ছিল ৪০ লাখেরও বেশি।

এই মামলার পাহাড় মাথায় নিয়ে দলটির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ কর্মীকেও পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বাংলানিউজকে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বিএনপির ওপর যে জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা মানব ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়। সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে আমাদের লাখ লাখ নেতাকর্মীর ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছে। শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে আমাদের ছেলেরা ঘরে ঘুমাতে পারেনি। তবে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, যার ফলশ্রুতিতেই শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

ফিরে দেখা; ১৭ বছরের অবরুদ্ধ মে মাস (২০০৮-২০২৪)

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতি বছর মে মাসের শেষ সপ্তাহে এসে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ, বৈশ্বিক মহামারি এবং তীব্র প্রতিকূলতার মাঝে সারা দেশে কীভাবে বিএনপির কর্মসূচি সংকুচিত ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, তার একটি বছরভিত্তিক সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।

২০০৮-২০১০ (ক্ষমতার শুরু ও প্রথম আঘাত): আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কয়েক বছর বিএনপি সীমিত পরিসরে কবর জিয়ারত, মিলাদ ও আলোচনা সভার মধ্যেই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য হয়। এ সময়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং কর্মসূচির ওপর প্রথম আঘাত আসতে শুরু করে।

২০১১-২০১৩ (তত্ত্বাবধায়ক বাতিল ও সংঘাত): তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে সংঘাত বাড়তে থাকে। ফলে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচিও প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের আটক ও হয়রানির তীব্র অভিযোগ তোলে বিএনপি।

২০১৪ (দশম সংসদ নির্বাচন ও বাধা): ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত ও একতরফা জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছায়। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দলটির দাবি অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের অধিকাংশ কর্মসূচিই সরকারি ও পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যায়।

২০১৫ (খালেদা জিয়ার অবরুদ্ধ দশা ও নিয়ন্ত্রণ): রাজনৈতিক আন্দোলনের জেরে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। দলীয় কর্মসূচির ওপরও ছিল প্রশাসনের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ। ফলে জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী ছিল অনেকটাই প্রতীকী ও সীমিত।

২০১৬-২০১৭ (সীমিত আয়োজন): আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারতকে কেন্দ্র করে ঘরোয়াভাবে কর্মসূচি পালিত হলেও, কোনো ধরনের বড় সমাবেশ বা জনসমাগমভিত্তিক উন্মুক্ত আয়োজনের অনুমতি মেলেনি।

২০১৮ (নেত্রীর কারাবাস ও নির্বাচনের বছর): নির্বাচনের বছর হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। এর ওপর জিয়াপরিবারের মামলার চাপ এবং শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের কারণে কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও বিষণ্ণ পরিসরে।

২০১৯ (কারাগার থেকে মুক্তির দাবি): খালেদা জিয়া তখন কারাগারে বন্দি। ফলে জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী ঘিরে দলীয় নেতারা কর্মসূচির মঞ্চ থেকে বারবার তার মুক্তির দাবি উত্থাপন করেন। দিনটি কেবল শোকের নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিবাদের রূপ নেয়।

২০২০ (করোনা মহামারির ধাক্কা): বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মহামারির কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যায়। ফলে দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেবল প্রতীকী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

২০২১ (মহামারির মাঝে দোয়া): করোনা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় এ বছরও স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিধিনিষেধের মধ্যে মিলাদ, দোয়া ও সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল বা ইনডোর আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।

২০২২ (১০ দিনের কর্মসূচি ও সংঘাত): করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে বিএনপি ১০ দিনের দীর্ঘ কর্মসূচি ঘোষণা করে। আলোচনা সভা, খাদ্য বিতরণ ও কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ৪১তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন করা হলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে খিচুড়ি বিতরণকালে হামলার ঘটনা ঘটে।

২০২৩ (১৩ দিনের কর্মসূচি ও বাধার অভিযোগ): নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি সেমিনার, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও ত্রাণ বিতরণসহ ১৩ দিনের বিস্তৃত কর্মসূচি গ্রহণ করে। তবে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দলটির নেতারা তীব্র রাজনৈতিক ও পুলিশি বাধার অভিযোগ করেন।

২০২৪ (গণ-অভ্যুত্থানের আগে শেষ ফোঁটা অত্যাচার): ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ১৫ দিনের দীর্ঘ কর্মসূচি ঘোষণা করে। কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা, গণদোয়া, সেমিনার ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি পালন করা হয়। বিগত বছরের তুলনায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর দলটির দাবি অনুযায়ী, এবার কিছুটা স্বস্তিকর পরিবেশে তারা কর্মসূচি পালন করতে পেরেছিল, যা ছিল পরবর্তী এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

গোটা দেশটাই ছিল এক বিশাল কারাগার

বিগত দিনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি স্মরণ করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলানিউজকে বলেন, গত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পুরো দেশটাকে একটা কারাগারে পরিণত করেছিল। বিরোধী দলের কেন্দ্র থেকে একেবারেই তৃণমূল পর্যায়ের কোনো কর্মীকে মামলা, হামলা ও নির্যাতন থেকে রেহাই দেওয়া হয়নি। এমনকি আমাদের দলীয় ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ কর্মসূচি, যেমন শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী, তাও আমাদের সঠিকভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি। প্রতি বছর এই সময়টায় আমাদের কার্যালয় পুলিশ ঘিরে রাখত, কাঙালি ভোজের খাবার ডাস্টবিনে ফেলে দিত। এটা কোনো রাজনৈতিক আচরণ ছিল না, এটা ছিল এক চরম বর্বরতা।

নতুন সূর্য, নতুন যুগ: তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ উন্মুক্ত রাজপথ

ইতিহাসের নির্মম পরিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এর পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে আসে এক আমূল পরিবর্তন।

আগের ও বর্তমানের পার্থক্য; যেন রাত আর দিন

গত ১৭ বছর বনাম বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট তুলনা করলে দেখা যায় এক বিস্তর ফারাক। যেখানে অতীতে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী মানেই ছিল টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ আর গ্রেপ্তারের আতঙ্ক; আজ সেখানে বইছে উৎসবের আমেজ।

গল্পের মতো ছন্দে ঘুরে গেল দিন

এক সময় যে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে সারিবদ্ধ সাঁজোয়া যান দাঁড়িয়ে থাকত, আজ সেখানে ভোরের আলো ফোটার আগেই সমবেত হয় লাখো মানুষ। ধবধবে সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা বৃদ্ধ কর্মী কিংবা মাথায় কালো রিবন বাঁধা তরুণ ছাত্রদল কর্মী-কারও চোখে আজ আর কোনো লুকোচুরি বা ভয়ের লেশমাত্র নেই।

আজকের দিনে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা ছাড়িয়ে একেবারে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামটিতেও ডেকচি চড়েছে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের। দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণের পাশাপাশি চলছে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ মুক্ত কণ্ঠে বলতে পারেন, আমাদের নেতার আদর্শকে বুলেট দিয়ে স্তব্ধ করা যায়নি, মামলার পাহাড় দিয়েও চেপে রাখা যায়নি।

১৭ বছরের সেই অন্ধকার সুড়ঙ্গ পেরিয়ে বিএনপি আজ আলোর মহাসড়কে। শহীদ জিয়ার স্মৃতি আজ আর কোনো অবরুদ্ধ দেয়ালে বন্দি নয়; তা ছড়িয়ে পড়েছে মুক্ত বাংলার আকাশে-বাতাসে। আজকের এই সুদিন যেন সেই লাখো নেতাকর্মীর ত্যাগেরই ফসল, যারা ঘর হারিয়ে, গ্রাম হারিয়ে, বছরের পর বছর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েও দল ও নেতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

সব শেষে বলা যায়, চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে সূচিত হয় এক নতুন অধ্যায়। জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, নির্বাসন, মামলা-মোকদ্দমা ও নানা প্রতিকূলতার পথ পেরিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসেন তিনি। তার দায়িত্ব গ্রহণকে বিএনপির নেতাকর্মীরা শুধু একটি রাজনৈতিক অর্জন হিসেবেই নয়, বরং দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেও দেখছেন।
তথ্য সূত্র : বাংলা নিউজ,,,,,


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com