২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ : তুরস্কের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ও ফুটবল ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ
স্পোর্টস ডেক্স ।।
দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বমঞ্চে আবারও ফিরে আসছে তুরস্ক। সবশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা দেশটি আগামী ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। ভিনসেনজো মন্তেয়ার অধীনে এই ‘তুরস্কের সোনালী প্রজন্ম’ এখন নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়।
২০২৬ বিশ্বকাপে ফেরার পথ
ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত খেলে প্লে-অফের বাধা টপকে বিশ্বকাপে উঠেছে তুরস্ক। কসোভোর বিপক্ষে প্লে-অফ ম্যাচে জয়ের পর তুরস্কের ফুটবল অঙ্গনে যেন আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল।
বাছাইপর্বের ফলাফল: স্পেনের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়েছিল তুরস্ক। স্বাভাবিকভাবেই স্পেনকে পেছনে ফেলতে পারেনি। গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে শেষ করে তুরস্ক। ৬ ম্যাচে ৪ জয়, ১ ড্র এবং ১ হার। এরপর খেলেছে প্লে-অফ।
শক্তি ও দুর্বলতা: বাছাইপর্বে ১৭টি গোল করে তারা তাদের আক্রমণাত্মক শক্তির জানান দিলেও, ১২টি গোল হজম করা ছিল রক্ষণভাগের দুর্বলতার লক্ষণ। তবে কোচ মন্তেয়ার কৌশলে প্লে-অফে রোমানিয়া ও কসোভোর বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়গুলো তাদের রক্ষণের উন্নতি প্রমাণ করে।
কোচ: ভিনসেনজো মন্তেয়া
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া ইতালীয় এই কোচ তুরস্কের ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ইতালির হয়ে ২০টি ম্যাচ খেলা এই সাবেক স্ট্রাইকার তুর্কি ফুটবল সংস্কৃতির সাথে দারুণভাবে মিশে গেছেন। এ নিয়ে মন্তেয়ার মন্তব্য হলো, ‘আমি একজন তুর্কির মতো অনুভব করি এবং তুর্কিদের মতোই চিন্তা করি।’
গ্রুপ ও সময়সূচি (গ্রুপ ডি)
২০২৬ বিশ্বকাপে তুরস্ককে লড়তে হবে ‘ডি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে এবং অন্যতম আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।
১৪ জুন: অস্ট্রেলিয়া বনাম তুরস্ক (ভ্যাঙ্কুভার, কানাডা)
২০ জুন: তুরস্ক বনাম প্যারাগুয়ে (সান ফ্রান্সিসকো, যুক্তরাষ্ট্র)
২৬ জুন: তুরস্ক বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র)
তুরস্কের বিশ্বকাপ ইতিহাস একনজরে
কনফেডারেশন: উয়েফা
অংশগ্রহণ: ৩ বার (১৯৫৪, ২০০২, ২০২৬)
সেরা সাফল্য: তৃতীয় স্থান (২০০২)
সামগ্রিক রেকর্ড: ১০ ম্যাচ, ৫ জয়, ১ ড্র, ৪ হার। (গোল ফর: ২০, গোল এগেইনস্ট: ১৭)
স্মরণীয় মুহূর্ত ও স্মরণীয় সাফল্য
২০০২ সালের রূপকথা: প্রায় ৪৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে সেবার তাক লাগিয়ে দিয়েছিল তুরস্ক। সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হারলেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছিল তারা।
দ্রুততম গোল: ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন হাকান সুকুর, যা আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্রুততম গোল।
ইলহান মানসিজের গোল্ডেন গোল: কোয়ার্টার ফাইনালে সেনেগালের বিপক্ষে তার করা গোলটি তুরস্ককে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য এনে দেয়।
১৯৫৪ সালের অভিষেক: অদ্ভুত এক লটারির মাধ্যমে স্পেনকে পেছনে ফেলে সেবার বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছিল তুরস্ক। প্রথম আসরেই দক্ষিণ কোরিয়াকে ৭-০ গোলে হারিয়েছিল তারা, যা এখনও বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় জয়।
বর্তমান দলের মূল কাণ্ডারি
বর্তমানে তুরস্ক দলে প্রতিভার ছড়াছড়ি। তরুণ তুর্কি: রিয়াল মাদ্রিদের আরদা গুলের এবং কেনান ইলদিজ শিরোনামে থাকলেও মাঝমাঠের মূল ভরসা ফের্দি কাদিওগলু এবং ওরকুন কোকচু।
সর্বোচ্চ গোলদাতা ও ম্যাচ
গোলদাতা: সুয়াত মামাত, বুরহান সারগুন এবং ইলহান মানসিজ—প্রত্যেকেই ৩টি করে গোল করেছেন।
রেকর্ড ম্যাচ: ফাতিহ আকিয়েল ও হাকান সুকুরসহ ৭ জন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ ৭টি করে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন। ২০২৬ সালে যদি তুরস্ক সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারে, তবে এই রেকর্ড ভাঙার সুযোগ থাকবে বর্তমান দলের খেলোয়াড়দের সামনে।



Post Comment