নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বরিশাল জেলায় গত সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৪৭১টি অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৪২টি এবং জেলায় ৩২৯টি অপরাধ সংঘটিত হয়। তবে আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় ধর্ষণের ঘটনা কমেছে। আগস্টে ধর্ষণের ঘটনা ১০টি থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭টিতে।
রোববার ১১ অক্টোবর সকালে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসার সঞ্চালনায় সভায় জেলা পুলিশ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, মাদক বিস্তার রোধে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সেপ্টেম্বর মাসে মোট ১৫০টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ৬ কেজি ২০৫ গ্রাম গাঁজা, ১৪৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৪ এ্যাম্পুল জি-মরফিন ইনজেকশন এবং ২১ এ্যাম্পুল ইজিয়াম ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পূজা চলাকালীন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশৃঙ্খলা কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা মস্ত বড় ইস্যু। এটা আমাদের এখন এক নম্বর বিবেচ্য বিষয়। এখানে যেন আমরা বিফল না হই। কারণ এটাতেই আমাদের সব অর্জন। তাই পূজা মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ইলিশ সম্পদ সুরক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশের নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বর্তমান মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর সুফল পাবে। তাই আইন অমান্যকারী অসাধু জেলেদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় অন্যদের মধ্যে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ. জেড. এম. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার বেলাল হোসাইনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।