শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার’: এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ‘র‍্যাব’ বিলুপ্ত করে আসছে ‘এসআরবি’ আইসিইউতে হাতকড়া পরা ছবি ভাইরাল: আওয়ামী লীগ নেতা মনির খানের মৃত্যু বিএনপির সভায় আওয়ামী লীগ নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা চরফ্যাশনে বিদ্যুতায়িত হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ‘হলুদ সোনালি বাটা’ দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বের জেরে হামলা: প্রাণ গেল মেয়ে জামাইয়ের, স্ত্রীসহ আহত পাঁচজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে রিকশাচালক গ্রেফতার ‘এদের মারো না কেন?’: ওবায়দুল কাদেরের কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে

কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এলো বিশালাকৃতির মৃত বেলিন তিমি

/ ৯৫ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

কুয়াকাটা প্রতিনিধি ।।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ভেসে এসেছে বিশাল আকৃতির একটি মৃত বেলিন প্রজাতির তিমি। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ফুট দীর্ঘ তিমিটির সন্ধান পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে তিমিটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিমিটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, এটি বেলিন (Baleen) প্রজাতির তিমি। বিশাল দেহের উপরের অংশের চামড়া অনেকটাই খসে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তিমিটি অন্তত ৫ থেকে ৬ দিন আগে মারা গেছে এবং সমুদ্রস্রোতের টানে ভেসে এ এলাকায় এসেছে।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু জানান, ওয়াটার বাইক চালকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ ফুট দীর্ঘ তিমিটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। তিনি বলেন, তিমিটি এখনও গভীর সমুদ্রে রয়েছে। স্রোতের কারণে এটি তীরে পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে।

এদিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, বাহ্যিক লক্ষণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে তিমিটি কয়েকদিন আগেই মারা গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নেক্রোপসি (ময়নাতদন্ত) ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জাহাজের ধাক্কা, মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়া, রোগব্যাধি, সামুদ্রিক দূষণ, খাদ্য সংকট, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণেও তিমিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা মৃত তিমিটির যথাযথ সংরক্ষণ, নমুনা সংগ্রহ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের বিরল সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান ভবিষ্যতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com