রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন
Logo

‘শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে’

/ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের যেসব সদস্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদান দেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বুধবার (১০ জুন) সকালে রাজধানীর সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের গৌরবময় ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ১০টি মিশনে নিয়োজিত আছেন এবং হাইতিতে একটি নতুন মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শান্তিরক্ষা মিশনে পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বিশ্বমঞ্চে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।’

সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়।’

দেশ গড়তে সবাইকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ আমাদের সবার। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে নিজের গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এজন্য সবাইকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

বিগত দিনের সংকটের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর একটি সর্বগ্রাসী আঘাত এসেছিল, যার ফল সবার জানা। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে চেইন অব কমান্ড ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে বাহিনীকে এগিয়ে যেতে হবে।

পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান বিশ্বে শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তন নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীকে পর্যায়ক্রমিকভাবে আধুনিকায়নের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশ সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে বলেও অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সবসময় শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং মানবতার পক্ষে থাকবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীসহ বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম ও মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বক্তব্য দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com