Loading Now

অতিরিক্ত ভাড়া নিলে রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিল হতে পারে: নৌপরিবহনমন্ত্রী

অনলাইন ডেক্স ।।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে নৌযানের রুট পারমিট, লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি আরও বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। লঞ্চের ছাদে যাত্রী ওঠানো যাবে না।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এর আগে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সদরঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ নৌপথে লঞ্চ, স্টিমার, ফেরি সার্ভিসসহ অন্যান্য নৌযান সুষ্ঠুভাবে চলাচলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মপন্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বৈঠকে বসেন নৌপরিবহনমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী রবিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ঈদে নৌপথে ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত যানজটমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, যাত্রী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা সব নদীবন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানে দৃশ্যমান রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে রবিউল আলম বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নৌযানের রুট পারমিট, লাইসেন্স বাতিলসহ মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও স্পিডবোট ঘাটে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।

১৬ থেকে ২৫ মার্চ বালুবাহী বাল্কহেড ও ডিঙ্গি নৌকা চলাচল বন্ধ

নৌদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত দিনে-রাতে সার্বক্ষণিক বালুবাহী বাল্কহেড ও ডিঙ্গি নৌকা চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দিনের বেলায় স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১৭ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক বাদে সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ নৌপথে ফিটনেসবিহীন নৌযান ও ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সব নৌযানকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে এবং সিরিয়াল ভঙ্গ বা অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নদীর মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানো বন্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ করে রাতের বেলায় টহল জোরদার করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এবং সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED