নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
বরিশালে বিদ্যুৎ ঘাটতি চাহিদার ৫০ ভাগেরও বেশি অতিক্রম করছে। বৃহস্পতিবার দিনভরই বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ৪শ মেগাওয়াটের নিচে ছিল। বুধবার রাত ১০টা থেকে লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারন করে। রাত ১২টার পরে সাড়ে ৭শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৩শ মেগাওয়াটের কিছু বেশী।
অসহনীয় এ বিদ্যুৎ ঘাটতির ফলে সরকারি-বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে পর্যন্ত অস্ত্রপচার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দু:সহ গরমে হাসপাতালের বেডে রোগীরা কাতরাচ্ছে। বরিশাল মহানগর সহ এ অঞ্চলের সব পৌর শহরগুলোতে পানির হাহাকার ক্রমশ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শিল্প ও ব্যবসা-বানিজ্যের অবস্থাও এখন বর্ণনার বাইরে চলে যাচ্ছে। বরিশাল অঞ্চলে বেসরকারী একাধিক উৎপাদন ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রীডে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত ছিল। কিন্তু পিজিসিবি’র ‘সেন্ট্রাল লোড ডেসপাস সেন্টার-সিএলডিসি’ থেকে বরিশাল অঞ্চলের ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ দিতে পারছেনা। ফলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা সহ জনস্বাস্থ্য এবং শিল্প ও ব্যবসা-বানিজ্যেও চরম বিরূপ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে।
মধ্যরাতের পরের লোডশেডিং বরিশাল মহানগরী সহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে দু:সহ গরমের সাথে ঘুটঘুটে অন্ধকারে এক ভীতিকর পরিস্থিতির তৈরী হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগের মধ্যেই মধ্যরাতের পরের এ অবর্ণনীয় বিদ্যুৎ ঘাটতিতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে মহানগরী সহ পুরো বরিশাল অঞ্চলের নিরাপত্তা সংকটে জনমনে আতংকও তৈরী হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পাম্প হাউজগুলোর বেশীরভাগই দিনরাত লোডশেডিং’র কবলে থাকায় নগরীতে পানি সরবরাহ পর্যন্ত ভয়াবহ বিপর্যয়ের কবলে। একই পরিস্থিতি এ অঞ্চলের ২৫টি পৌর শহরেরও। পাশাপাশি বৃহস্পতিবারও দিনভর নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ঘাটতির কবলে ছিল মহানগরী সহ পুরো বরিশাল অঞ্চল। ডে-পীক আওয়ারেও প্রায় ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ৪শ মেগাওয়াটের মধ্যে ওঠানা করে। ফলে শহর আর গ্রামের প্রতিটি ফিডার ঘন্টা অন্তর এক ঘন্টা করে লোডশেডিং’র কবলে পড়ছে। পরিস্থিতি উত্তরণে আপাতত কোন পথও দেখছে না বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন কোম্পানীগুলো।
তবে পিজিসিবি এবং ওজোপাডিকো’র প্রকৌশলীদের মতে, সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে। এদিকে মধরাতের পরে গা-হীম করা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানী ‘ওজোপাডিকো’র বেশ কিছু ১১/.০৪ ট্রান্সফর্মার খুলে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগের মাঝে খোদ বিদ্যুৎ বিভাগও। বরিশাল মহানগরীতে ট্রান্সফর্মার চুরি প্রতিরোধে সাধারন মানুষের সহায়তা চেয়ে মাইকিং পর্যন্ত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।