শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন
Logo

আ.লীগ নেতাকর্মীর ৩৩ অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

/ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ।।

ঝালকাঠিতে জননিরাপত্তার স্বার্থে ২৫ জনের ৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র ও গুলি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুব লীগের নেতাকর্মী।

বুধবার (১৭ জুন) লাইসেন্স বাতিল প্রাপ্তদের হাতে পৌঁছায় ৪ জুন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, আর্মস অ্যাক্ট ১৮৭৮ এর ১৮(ক) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’ এর ১৯(চ) ধারা অনুযায়ী জননিরাপত্তার স্বার্থে এসব লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম ও তার ছোট ভাই ডা. সৈয়দ জহুরুল হক (স্বপন), কাঠালিয়া উপজেলার মো. ফরিদুজ্জামান (জাহাঙ্গীর), ঝালকাঠি সদরের ডাক্তার পট্টির মো. সোহেল আহমেদ, মো. জাকির হোসেন কাঠালিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তালুকদার, যুবলীগ নেতা মো. কামাল শরীফ, যুব মহিলা লীগ নেত্রী ইয়াসমিন আক্তার পপি রাজাপুর, নারগিস আক্তার, চন্দ্র শেখর হালদার রাজাপুর, শাহীন মৃধা (তারেক) রাজাপুর, যুবলীগ নেতা হাফিজ আল মাহমুদ, জেলা যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম জাকির ঝালকাঠি, আলম হোসেন, অ্যাড. এস এম রুহুল আমিন (রিজভী) ঝালকাঠি, আব্দুর রহিম মিয়া (বাবুল), আমিনুল ইসলাম খান লিটন, জাতীয় পার্টি নেতা এম এ কুদ্দুস খান, আরিফুর রহমান খান, আরিফ হোসেন, মাজেদ হাসান, ঝালকাঠি পৌরসভার সাবেক মেয়র আফজাল হোসেন রানা, পলাশ মন্ডল, আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুল হক আকন্দ এবং লোকমান মল্লিকসহ (শাহজাহান) ২৫ জনের ৩৩টি অস্ত্র।

তালিকায় .২২ ও .৩২ বোরের এনপিবি পিস্তল ছাড়াও ১২ বোর শর্টগান ও বন্দুকের লাইসেন্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কয়েকজন লাইসেন্সধারীর একাধিক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও ক্রীড়াবিদ এম এ কুদ্দুস খান বলেন, আমি একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী প্রতিদিন বড় অঙ্কের নগদ টাকা নিয়ে ঢাকা ভালুকা যাতায়াত করতে হয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে লাইসেন্স বাতিল করে আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে আমি নেতাকর্মীদের নিয়ে ঝালকাঠিতে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছি।

জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে লাইসেন্সগুলো বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্র ও গুলি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com