অনলাইন ডেক্স ।।
চাঁদপুরে কালবৈশাখীর কবলে পড়ে দুই লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে লঞ্চঘাটে নোঙর করা একাধিক লঞ্চ, পন্টুন ও জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। সোমবার (২৫ মে) দুপুরের দিকে চাঁদপুর লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার দুপুরের দিকে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে চাঁদপুর লঞ্চঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল বাতাস ও উত্তাল নদীর মধ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো ঘাটে ভিড়তে গিয়ে বিপাকে পড়ে। এ সময় যাত্রীবাহী ‘ঈগল-৭’ লঞ্চে থাকা যাত্রীরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই আরেক যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘ময়ূর২’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঈগল-৭ লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়।
এ সময় ঈগল-৭ লঞ্চটি হেলে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে ব্যাগ ও মালামাল ফেলে দ্রুত নামার চেষ্টা করেন। এতে হুড়োহুড়িতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই ঘাট এলাকায় দায়িত্বে থাকা নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও স্কাউট সদস্যরা উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আতঙ্কিত যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
চাঁদপুর নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল আজাদ বলেন, হঠাৎ সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ে লঞ্চে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এসময় নৌ-পুলিশ দ্রুত যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
লঞ্চ থেকে নামার সময় কয়েকজন যাত্রী আহত হলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লঞ্চ ও পন্টুনে পড়ে থাকা যাত্রীদের মালামাল তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু সময়ের জন্য নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। প্রচণ্ড ঝড়ে পন্টুন ও জেটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।