বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
প্রীতি জিনতার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন ব্রেট লি ফ্যাসিস্ট সরকার মেগা দুর্নীতিতে ব্যস্ত ছিল: প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর চুরি করতে এসে গৃহবধূর কামড়ে আঙুল হারাল চোর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক যুগ্ম সচিব গ্রেফতার নলছিটিতে দুই ফ্ল্যাটে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট চলে গেলেন ভারতীয় অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত রাতে কুকুরের আড্ডা, সকালে সেই খাট্টায় বিক্রি হচ্ছে মাংস! খাল পুনঃখনন শেষে ৭৬ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত ছুটির রাতে ভূমি অফিসে তহশিলদার, অবশেষে বদলি আবুল বাসার কেউ কেউ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু করেছেন: প্রধানমন্ত্রী

খাল পুনঃখনন শেষে ৭৬ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত

/ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

গৌরনদী প্রতিনিধি ।।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ যেখানে প্রায়ই ওঠে, সেখানে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন। ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে শেষ করে অব্যয়িত ৭৬ লাখ ৯ হাজার ২৭৫ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীমের নেতৃত্বে নেওয়া এ উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাস জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’ থেকে গৌরনদী উপজেলার সরিকল ও বাটাজোর ইউনিয়নের ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী ৫০ ফুট প্রস্থ ও গড়ে ১৩ ফুট গভীরতায় খালটি পুনঃখনন করা হয়। কাজ শেষে ব্যয় সাশ্রয়ের ফলে অব্যয়িত ৭৬ লাখ ৯ হাজার ২৭৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন খালটি ভরাট থাকায় সেচ, পানিপ্রবাহ ও জলাবদ্ধতা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পুনঃখননের ফলে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বাড়বে, বর্ষাকালে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। পাশাপাশি দেশীয় মাছের আবাসস্থল সৃষ্টি ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।

গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের পর উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ইউএনওর এই উদ্যোগ সরকারি অর্থ ব্যবহারে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ ধরনের সংস্কৃতি সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত হলে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপস না করে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করায় প্রাক্কলনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। তাই অব্যয়িত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়াই আমাদের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ সফলতা শুধু একজনের নয়। উপজেলা প্রশাসন, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মাঠপর্যায়ের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। আন্তরিকতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে সরকারি প্রকল্পেও ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব।’

উল্লেখ্য, দেশের নদী, খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সরিকল-বাটাজোর এলাকার ১০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। গত ১২ জুলাই খালের দুই তীরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ইতিমধ্যে সেখানে প্রায় ছয় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com