বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫২ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
ফ্যাসিস্ট সরকার মেগা দুর্নীতিতে ব্যস্ত ছিল: প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর চুরি করতে এসে গৃহবধূর কামড়ে আঙুল হারাল চোর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক যুগ্ম সচিব গ্রেফতার নলছিটিতে দুই ফ্ল্যাটে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট চলে গেলেন ভারতীয় অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত রাতে কুকুরের আড্ডা, সকালে সেই খাট্টায় বিক্রি হচ্ছে মাংস! খাল পুনঃখনন শেষে ৭৬ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত ছুটির রাতে ভূমি অফিসে তহশিলদার, অবশেষে বদলি আবুল বাসার কেউ কেউ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু করেছেন: প্রধানমন্ত্রী পরকীয়া প্রেমিকার ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক জামায়াত কর্মী!

কেউ কেউ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু করেছেন: প্রধানমন্ত্রী

/ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

‎অনলাইন ডেক্স ।।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কেউ কেউ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন। এতে পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছেন। এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ‘আমি আজ এই অনুষ্ঠানে একটি বিষয়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই…ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু করেছেন। এসব পরিস্থিতিতে তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত পরাজিত-পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছেন কি না—সেটি ভেবে দেখার আহ্বান জানাই।’

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতের প্রতিটি ঘটনার বিচার নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যাঁরা হতাহত হয়েছেন, পর্যায়ক্রমে অবশই প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে। কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার নয়, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেই বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য। সরকার মনে করে, আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্যই প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি।

৫ আগস্টের আজকের এদিনটি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম-অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। লাখ লাখ মানুষ নির্যাতন-নিপীড়ন, হামলা কিংবা মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছিলেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানেই শহীদ হয়েছিলেন হাজারো ছাত্র, জনতা, নারী ও শিশু। আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছিল। পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা—এমন বর্বরতা সভ্য জগতে বিরল।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম-খুন-অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই নৃশংসতা শুধু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসনের সঙ্গেই তুলনা চলে। এমন বাস্তবতায়, আজকের ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস যেমন তুলে ধরবে, অপর দিকে তাদের সামনে উন্মোচিত হবে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ।

বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসনকে মেনে নিতে পারেনি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেরই পূর্বসূরিগণ ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এসব ইতিহাস জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, শুধু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানই নয়; এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসও সংরক্ষিত থাকা জরুরি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের আর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। জনগণ যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ভোলেনি, একইভাবে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় শহীদদেরও জনগণ ভুলবে না।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের সহায়তায় সরকার আন্তরিক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথানিয়মে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, রাশিয়ায়সহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com