কুয়াকাটা প্রতিনিধি ।।
জাতীয় পতাকার প্রতি অবিচল আনুগত্য, দেশরক্ষার অঙ্গীকার এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ২০২৬ ব্যাচের ৪৪১ জন নবীন নাবিক।
বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে তাদের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণের সফল সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নবীন নাবিকদের মাঝে পদক ও পুরস্কার বিতরণ করেন।
প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ কৃতিত্ব অর্জন করে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন মোঃ শাহরিয়ার টুটুল। তিনি পেশাগত ও সামগ্রিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ‘কমখুল পদক’ পান মোঃ সামিউল ইসলাম শাকিল এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ লাভ করেন মোঃ কাদের মিয়া। এছাড়া সেরা চৌকশ মহিলা নাবিক হিসেবে মোছাঃ মারিয়া আক্তার ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পদক’ অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জম হোসেনসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি নৌবহরে দুটি হেলিকপ্টার, দুটি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি), চারটি মাল্টি-মিশন ইন্টারসেপ্টর বোট এবং পাঁচটি পেট্রোল বোট সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব ডাটা সেন্টার, BNNET স্থাপন, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে জাহাজ ও আধুনিক ড্রোন সিস্টেম সংযোজনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডসমূহ নিজস্ব সক্ষমতায় যুদ্ধজাহাজ, এলসিটি ও অন্যান্য সহায়ক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নৌবাহিনী প্রধান ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য নৌ সদস্যদের প্রশংসা করেন।
তিনি নবীন নাবিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সততা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
প্রাণবন্ত ও মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে নবীন নাবিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অঙ্গনে যুক্ত হন এবং দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের শপথ গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসওগণ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।