রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন
Logo

ফরিদপুরে ডিবির হেফাজতে থাকা যুবকের মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ

/ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

ফরিদপুরে মাদকসহ আটকের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা অবস্থায় মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৪) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (২১ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, পুলিশের নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

মারা যাওয়া যুবক মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত মির্জা এসকেন্দারের ছেলে এবং ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর বাবা মারা যাওয়ায় মধুখালী চিনিকলে চাকরি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় গোন্দারদিয়া গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ তাঁকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। পরে তাঁকে মধুখালী থানায় নেওয়া হয়। এরপর মাদক-সংক্রান্ত আরও অভিযান শেষে গভীর রাতে তাঁকেসহ চারজনকে ফরিদপুরে নিয়ে আসা হয় এবং ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। আজ ভোর ৫টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনের দাবি, কোনো নির্যাতন করা হয়নি, শ্বাসকষ্টের কারণে এবং ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আজ ভোরে তাঁকে অন্য আসামিদের সঙ্গে রাখা হয় এবং কক্ষটিতে বৈদুতিক পাখারও ব্যবস্থা ছিল। তিনি সেখানে ফজরের নামাজও আদায় করেন। এরপর নিজেই অন্যদের জানান, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তখন আমাদের জানানো হলে তাৎক্ষণিক জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং সেখান থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাঁর সিটি স্ক্যান রিপোর্টে ব্রেইন স্ট্রোকের কারণ দেখা গিয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, ‘মারা যাওয়া যুবক চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাঁর নামে মধুখালী থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।’ তবে তাঁর এই দাবির বিষয়ে জানতে মধুখালী থানার ওসিকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও ফোন ধরেননি।

এদিকে ডিবি পুলিশের নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। মাদকের সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করে নিহত যুবকের চাচি নাসরিন জামান বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর ছেলেটা পড়ালেখার পাশাপাশি মিলে চাকরি করে সংসার চালায়। গতকাল (শনিবার) বিকেলে মিল থেকে এসে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তখনই ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন এসে ধরে মারধর করতে থাকে। এরপর ঘরের ভেতরে এনেও মারতে থাকে। তবু ওর কাছে কিছুই পায়নি, একটা সিগারেটও পায়নি। একপর্যায়ে বলে, ও রাজনীতি করে, নিয়ে চল। এরপর নিয়ে যায় এবং সকালে আমাদের ফোন করে জানায়, অসুস্থ হয়ে পড়েছে, মেডিকেলে আছে। আমাদের লোকজন গিয়ে দেখে মারা গেছে।’

এ ছাড়া তাঁকে ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতা বলে দাবি করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান। তাঁর সঙ্গে তোলা একটি ছবি সংযুক্ত করে ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘গতকাল রাতে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত মির্জাকে তাঁর বাসা থেকে ফরিদপুর ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং আজ সকালে দেখা গেল ফরিদপুর মেডিকেলে তাঁর মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু কোনো কিছু না, সঠিক তদন্তের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জনগণের কাছে অনুরোধ করলাম। আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না; আমরা আমাদের ভাইয়ের মৃত্যুর রহস্য জানতে চাই।’

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতা ফেসবুকে তাঁকে ছাত্রলীগ কর্মী বলে প্রচার করছেন। তবে আগে সংগঠনটির কার্যক্রমে জড়িত থাকলেও কোনো পদে নেই বলে পরিবার ও স্বজনেরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শারীরিকভাবে আঘাতের কোনো চিহ্ন তাঁর শরীরে নেই। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com