বরগুনা প্রতিনিধি ।।
বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে এক নারী কর্মী ও তাঁর দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বিকেল চারটার দিকে শহরের থানাপাড়া এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
মৃত ইতি রানী (৩৪) জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর অস্থায়ী কর্মচারী ছিলেন (পরিচ্ছন্নতাকর্মী)। তিনি বরগুনা পৌরসভার কালীবাড়ি সড়কের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী।
কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ। বিশেষ করে যে দুটি কক্ষে লাশ পাওয়া গেছে, সেগুলোর উভয় দরজাই ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।
ডাকবাংলোর তত্ত্বাবধায়ক মো. লিটন সাংবাদিকদের জানান, ইতি রানী আজ বেলা ১১টার দিকে ডাকবাংলোতে কাজে আসেন। সঙ্গে তাঁর ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাস (৩) এবং বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১১) ছিল। তাঁকে পরিচ্ছন্নতার কাজ বুঝিয়ে দিয়ে তিনি (লিটন) জেলা পরিষদ কার্যালয়ে যান। বেলা তিনটার দিকে তিনি ফিরে এসে দেখেন ইতি রানী ডাকবাংলোতে নেই। পরে খোঁজ করতে গিয়ে তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ ভেতর থেকে আটকা দেখে তিনি ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বিষয়টি জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের জানান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বিকেল চারটার দিকে বরগুনার থানার পুলিশের একটি দল তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে।
ডাকবাংলোর তত্ত্বাবধায়ক লিটনের ভাষ্য, ইতি রানী দুই মাস আগে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ নেন।
পুলিশ জানায়, খাকদোন-৪ নম্বর কক্ষে দরজা বন্ধ অবস্থায় ইতি রানী ও তাঁর ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসকে পৃথক দুটি খাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। একই ভবনের খাকদোন-৩ নম্বর কক্ষ থেকে বড় মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাসের লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো বরগুনার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলে ঘুমের ওষুধ ও পানির বোতল
বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে কক্ষে ওই নারীর বড় মেয়ের মরদেহ পাওয়া গেছে, সেখানে মরদেহের পাশে ঘুমের ওষুধ ও একটি পানির বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে ডাকবাংলোয় এসেছিলেন। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো কারণে তিনি আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। কারণ, দুটি কক্ষের দরজাই ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে একজন মা সন্তানদের নিয়ে এ ধরনের স্থানে আসেন না। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আমরা জেনেছি, তিনি মেয়েদের ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। ফলে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
মৃত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বিষয়টি শোনার পর ডাকবাংলোতে আসেন। এসে তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন এবং বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি সুপারি বেচাকেনার ব্যবসা করেন। ঘটনাস্থলে এসে বিলাপ করতে করতে করতে দুলাল বলেন, ‘আমি সকালে আমতলীতে সুপারি কিনতে যাই। এ সময় স্ত্রীর হাতে বাজারের টাকা দিয়ে যাই। ইতি জানিয়েছিল আজ সে কাজে যাবে না। দুপুরে আমি ফিরে এসে দেখি বাড়িতে তালা দেওয়া। আশপাশে তার (ইতি) ও বাচ্চাদের খোঁজ পাচ্ছিলাম না। পরে ডাকবাংলাতে তাদের লাশ পাওয়ার খবর পাই।’