মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ন
Logo

বৈবাহিক অবস্থা থেকে বাড়তে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি

/ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

ব্যায়াম না করা থেকে শুরু করে বংশগত কারণসহ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে অনেক কিছুই কাজ করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বৈবাহিক অবস্থাও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে বা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়, ‘যারা কখনও বিয়ে করেননি, তাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বিবাহিতদের চেয়ে অনেক বেশি।’

গবেষকেরা অবশ্য বলছেন, তার মানে এই নয় যে ক্যানসার থেকে বাঁচতে সবাইকে বিয়ে করতেই হবে। বরং বিবাহিত জীবনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও সামাজিক মেলবন্ধন মানুষকে এই রোগ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি মিলার স্কুল অব মেডিসিন-এর সিলভেস্টার কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টার-এর গবেষকেরা পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণাটি পরিচালনা করেন।

ক্যানসার এপিডেমিওলজি বা রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং এই গবেষণার সহ-লেখক ড. পাওলো পিনহেইরো জানান, জনসংখ্যা স্তরে ক্যানসারের ঝুঁকি বোঝার জন্য বৈবাহিক অবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।

গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ১০ কোটি মানুষের আট বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। যেখানে প্রায় ৪০ লাখ ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর ডেটা বা তথ্য পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী:

অবিবাহিত নারীদের জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের চেয়ে প্রায় তিন গুন বেশি।

অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিত পুরুষদের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি।

অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বিবাহিত নারীদের চেয়ে ৮৫ শতাংশ বেশি।

টেক্সাস ইউনিভার্সিটির এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের অধ্যাপক ড. লর্না এইচ ম্যাকনিল এবং ফক্স চেজ ক্যানসার সেন্টারের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. নম্রতা বিজয়ভার্গিয়া- এই বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

সেল্ফডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তারা মন্তব্য করেন যে, এই ঝুঁকির পেছনে সরাসরি বিয়ে নয়, বরং জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস জড়িত। অবিবাহিতরা অনেক সময় ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং অস্বাচ্ছন্দ্যকর বা পুষ্টিহীন খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

ক্যালিফোর্নিয়ার মেমোরিয়ালকেয়ার টড ক্যানসার ইনস্টিটিউটের কলোরেক্টাল সার্জন ড. কেটান থাঙ্কি বলেন, বিবাহিতরা সাধারণত জীবনসঙ্গীর অনুপ্রেরণায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা ক্যানসার স্ক্রিনিং করান। যেমন— বিবাহিত পুরুষেরা অবিবাহিতদের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি কোলনোস্কোপি করিয়ে থাকেন। জীবনসঙ্গী পাশে থাকলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া বা সঠিক সময়ে ডাক্তার দেখানোর মতো অভ্যাসগুলো সহজ হয়।” এর বাইরে সামাজিক একাকিত্বও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানোর আরেকটি বড় কারণ হতে পারে।

নিউইয়র্কের লেনক্স হিল হাসপাতালের অনকোলজিস্ট ডা. নিকোলাস হর্নস্টাইন আশ্বস্ত করে বলেন, “বিয়ে না করলেই যে ক্যানসার হবে, এমন কোনো কথা নেই। ক্যানসার একটি জটিল রোগ। আর কেবল সম্পর্কের অবস্থা দিয়ে এটি সম্পূর্ণ নির্ধারণ করা যায় না।

অনেকে বিয়ে না করেও দীর্ঘমেয়াদি ‘পার্টনারশিপ’ বা সম্পর্কে থাকেন কিংবা তাদের চমৎকার সামাজিক জীবন থাকে, তাদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি কমে আসে। কারণ আসল বিষয়টি হল, শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে হুট করে ‘ডেইটিং অ্যাপ’ ব্যবহার শুরু করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে যারা একা বা অবিবাহিত আছেন, তাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি একটু বেশি যত্নশীল হতে হবে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো, ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা এবং চিকিৎসকের সংস্পর্শে থাকাই ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com