পবিপ্রবি প্রতিনিধি ।।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে টানা অষ্টম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের সদস্যরা।
সোমবার (১৮ মে) বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট শুরু হয়।
পবিপ্রবি ভিসি ডক্টর কাজী রফিকুল ইসলামের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে গত ১১ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী ও শিক্ষার্থী ঐক্য জোট নানাভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। এ সময় ভিসির পক্ষে বহিরাগতরা ঢুকে আন্দোলন কর্মসূচীতে হামলা করে। হামলায় শিক্ষক কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। এর প্রতিবাদে ভিসি-বিরোধী শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এরপর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভ করেন। তারা দুমকি-বাউফল-বরিশাল মহাসড়কও অবরোধ করেন।
এ ঘটনার পর পবিপ্রবি ডিন কাউন্সিল, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা করেন।
প্রক্টর আতিকুর রহমান ও প্রক্টর আবুল বাশার খান জানান, বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ করে শিক্ষকরা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে শামিল হন।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, পবিপ্রবিতে শিক্ষক কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার পর ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভিসি ড. কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ঢাকায় রয়েছেন। তবে তার অনুপস্থিতে এমন অযৌক্তিক আন্দোলন দুঃখজনক বলেও জানান তিনি।
অভিভাবককহীন পবিপ্রবিতে আন্দোলনের সূত্র ধরে অচল হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশন জটের মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।