সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
Logo

সুগন্ধিয়া বাজারে নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত টোল আদায়

/ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬


ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধিয়া বাজারে গরুর হাটকে কেন্দ্র করে ইতিহাসের সবচেয়ে নজিরবিহীন চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা ও নির্ধারিত টোলের তোয়াক্কা না করে ইজারাদার চক্র সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
​নির্ধারিত টোলের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি আদায়।​অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুগন্ধিয়া হাটে সরকার নির্ধারিত প্রতি গরুর টোল ২০০ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও, ইজারাদাররা জোরপূর্বক ৫০০ টাকা করে আদায় করছে। রসিদ ছাড়াই কিংবা নিয়মের বাইরে গিয়ে এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা নিয়ে হাটে আসা সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​বাঁশের খুঁটি ও গাছ নিয়েও বাণিজ্য ​শুধু টোল আদায়ই নয়, হাটে গরু বাঁধার জায়গা নিয়েও চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিক্রেতাদের অভিযোগ—গরু বাঁধার আড়াইল (খুঁটি) বাবদ ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। ইজারাদারদের দাবি, এই টাকা বাঁশের দাম ও লেবার খরচ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।​এমনকি হাটের ভেতরের বাগানে বা ব্যক্তিগত গাছের সাথে কেউ গরু বাঁধলে, সেখানেও ইজারাদারের লোকজন গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে বহু কষ্ট করে গরু নিয়ে আসা বিক্রেতারা চরম মহাবিপদে পড়েছেন।

​মাজারের অনুদানেও ইজারাদারদের থাবা। ​সুগন্ধিয়া বাজারের ইতিহাসে এবারই প্রথম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুদানেও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিখ্যাত হযরত ইয়াকিন शाह দরবারের খাদেম আব্দুর রব ফকির অভিযোগ করে বলেন।আগে হাটে কোনো ক্রেতা গরু কিনলে খুশি হয়ে দরবারের তহবিলে কিছু টাকা দান করতেন। এবার সেখানেও বাধা দিচ্ছে ইজারাদার গ্রুপ। মানুষ যাতে দরবারে টাকা দিতে না পারে, সেজন্য তারা নিজেরা গিয়ে সেই টাকা জোর করে নিয়ে যাচ্ছে।

​ক্ষুব্ধ বিক্রেতা ও স্থানীয় জনতা​হাটে আসা একাধিক বিক্রেতা জানান, সুগন্ধিয়া বাজারের দীর্ঘ ইতিহাসে কখনো এমন অনিয়ম ও প্রকাশ্যে জুলুমের ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় ইজারাদাররা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার সাহস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামীতে বিক্রেতারা এই হাটে গরু আনা বন্ধ করে দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

​এই নজিরবিহীন চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধে এবং সুগন্ধিয়া বাজারের ঐতিহ্য রক্ষার্থে ঝালকাঠি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com