শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
Logo

হিজলায় লঞ্চঘাট প্রকল্প উদ্বোধনের ৪ মাসের মাথায় সড়ক ও জেটিতে ধস

/ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

হিজলা প্রতিনিধি ।।

বরিশালের হিজলায় উদ্বোধনের চার মাসের মাথায় মৌলভীরহাট লঞ্চঘাট প্রকল্পের সড়কে ধস এবং জেটির অনেক অংশ দেবে গেছে। পাইলিং না করা, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণে ২৫ লাখ টাকার এই প্রকল্পের এমন বেহাল দশা হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এতে লঞ্চঘাটে আসা যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সড়ক ও দেবে যাওয়া জেটি পেরিয়ে লঞ্চে উঠছেন তাঁরা। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি, লঞ্চঘাটে নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সড়ক ও জেটি ধসে পড়ছে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, প্রথম দফায় জেটিঘাট ও লঞ্চঘাটের সড়ক ভেঙে যাওয়ার পরে সংস্কারের জন্য দ্বিতীয় দফায় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদারির কাজ করেছেন নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী। কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নতুন সড়ক ও জেটি নির্মাণ করা হয়। গত ৩০ জানুয়ারি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন লঞ্চঘাট উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর গত এপ্রিল মাসে জেটির আংশিক দেবে যায়। কয়েক দিন আগে সড়কের একটা বড় অংশ ধসে নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে লঞ্চঘাটের সম্পূর্ণ সড়ক ও জেটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নতুন বরাদ্দের সংস্কারকাজে অনিয়ম হয়েছে। সড়ক নির্মাণের সময় নদীতে ভালোভাবে পাইলিং করা হয়নি। তড়িঘড়ি আর জোড়াতালি দিয়ে কাজ করায় সড়ক ও জেটি ধসে পড়ছে।

সরেজমিনে হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটে দেখা যায়, সড়কের একাংশ নদীতে ধসে পড়েছে। পন্টুনে ওঠার জেটির একপাশ দেবে গেছে। সাধারণ মানুষ সেই জেটি দিয়ে পন্টুনে উঠছেন। অনেকে নৌকার সহায়তা নিচ্ছেন।

মৌলভীর হাট এলাকার ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই লঞ্চঘাট প্রকল্পের নির্মাণকাজ পান তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত বেলায়েত হোসেন ঢালীর ছেলে রাজু ঢালী। ঘাটের কাজে রাজু ঢালী ও তাঁর সিন্ডিকেট নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ নানা অনিয়ম করেন। কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই পুরো ঘাটটি ভেঙে যায়। প্রথম দফায় সরকারের প্রায় কোটি টাকা গচ্চা যায়।’

মৌলভীর হাট এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, , ‘প্রথমবার ঘাটটি ধসে যাওয়ার পর জনগণের দুর্ভোগ ও নদী পারাপারের গুরুত্ব বিবেচনা করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন বরাদ্দের কাজ আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজু ঢালীকে দেওয়া হয় এবং তিনি আগের মতো চরম গাফিলতি ও দায়সারা কাজ করেন। ফলে উদ্বোধনের চার মাসেই সড়ক ও জেটি ভেঙে পড়েছে।’

অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার রাজু ঢালী বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় সরকারি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে।’

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় মৌলভীর হাটে লঞ্চঘাটের জেটি ও সড়ক ধসে পড়েছে। শিগগির ঘাটটি পরিদর্শন করে নতুনভাবে সংস্কার করা হবে।’

একই ঠিকাদার দ্বিতীয়বার কাজ পাওয়ার বিষয়ে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এক টাকার কাজের জন্যও অনলাইনে দরপত্র প্রক্রিয়া করে ঠিকাদার নির্ধারণ করা হয়। সেখানে ম্যানুয়ালি ঠিকাদার নির্ধারণের সুযোগ নেই। অনলাইনের দরপত্র প্রক্রিয়ায় যেকেউ কাজ পেতে পারেন। ওই ঠিকাদার নজরুল ইসলাম রাজু ঢালীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com