মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
উজিরপুরে বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ‘জেগে ওঠা’ দুই কবরের পেছনে প্রতারণার ফাঁদ, অবশেষে ভাঙল ঝাড়ফুঁকের আসর এবার আফগানিস্তানের লিগেও সাকিব, খেলবেন কোন দলে ঝালকাঠিতে যৌথ অভিযানে অবৈধ ইটভাটার চিমনি ও চুলা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন আমতলীতে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ দম্পতি গ্রেপ্তার মালদ্বীপে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেফতার কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৩ লাখ টাকার নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ-জাটকা জব্দ দেশের সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের জরুরি নির্দেশনা রাজাপুরে যুবক হত্যার চার দিন পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

‘এইচএসসিতে সবচেয়ে ফেল আইসিটিতে, অনার্স পাস করা আইসিটি গ্র্যাজুয়েট কেন ২০-২৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করবেন?’

/ ৮ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী ফেল করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আইসিটি বিষয়ে অনার্স পাস করা একজন গ্র্যাজুয়েট কেন ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করবেন? একইভাবে গণিত ও ইংরেজিতে স্নাতক করা একজন শিক্ষার্থী কেন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করবেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। শিক্ষার মান, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এইবারের এইচএসসির ফলাফলে আইসিটি ও ইংরেজিতে ফেইল করার কারণে নাকি ৪ লক্ষ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।’

‘আমার প্রশ্ন এইটা কার ব্যর্থতা? আমিতো মনে করি এইটা পুরো জাতির ব্যর্থতা। যেই দেশে বাংলা বা অন্য বিষয়ের শিক্ষককে ছয় মাসের একটা ট্রেনিং দিয়ে বলে আইসিটি বা গণিত কিংবা ইংরেজি পড়াতে সেই দেশের শিক্ষার মান কোথায় যাবে ভাবুনতো। সমস্যার শুরু মাধ্যমিক থেকেই। মাধ্যমিকের প্রতি  ইংরেজি, গণিত ও আইসিটি বিষয়ের প্রতি ৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৪ জনেরই নাই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্তত অনার্স।’

শিক্ষকদের বেতন ও পেশাগত মর্যাদার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, ‘একজন আইসিটি বিষয়ে অনার্স পাশ করা কেউ কেন ২০ বা ৩০ হাজার টাকার বেতনের চাকুরী করবেন? একজন গণিত বা ইংরেজি ভাষায় অনার্স  পাশ করে কেন ২০  বা ২৫ হাজার টাকার বেতনের চাকুরী করবেন? এইজন্যইতো গত অন্তত ৫ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বলে আসছি শিক্ষায় জিডিপির ৫.৫% বরাদ্দ দিন। শিক্ষকদের জন্য একটা উচ্চতৰ স্বতন্ত্র বেতন স্কেল দিন। দেশ ও জাতিকে যদি উন্নত করতে চান এর কোন বিকল্প নেই।’

শিক্ষার উন্নয়নে জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র উচ্চতর বেতন স্কেল চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি জাপানের শিক্ষাব্যবস্থার উদাহরণও দেন।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মাত্রই রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান ঘুরে এসেছেন। এত সুন্দর পরিচ্ছন্ন ও নিয়ম মানা জাতি পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। আর ঠিক তার উল্টোটা বাংলাদেশে। জাপান এত সুন্দর ও সবাই এত নিয়ম মানে কারণ এইসব শেখানো হয় ছোট ছোট বাচ্চাদের। এমনভাবে শেখায় যেন ডিএনএর মত শিক্ষাটা ভিতরে বাহিরে অন্তরে সর্বত্র লেখা হয়ে যায়। নিয়ম মানাটা মজ্জাগত হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবে সম্ভব হলে আগামীকালকেই শিক্ষকদের একটা উন্নত স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ঘোষণা করে মেধাবীদের এই পেশায় নিয়ে আসুন। এই পেশায় দুর্নীতির সুযোগ থাকলে রাষ্ট্র দুর্নীতিতে ছেয়ে যাবেই।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com