নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (আইসিডিএ) ও বারসিক-এর যৌথ আয়োজনে “খাদ্য ব্যবস্থা, আঞ্চলিক বাস্তবতা ও এগ্রোইকোলজির পথ: ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে” শীর্ষক একটি নাগরিক সংলাপ (৮ আগস্ট) শনিবার সকাল ১০ টায় নগরীর এবিসি ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নাগরিক সংলাপে সভাপতিত্ব করেন আইসিডিএ-এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান কার্যকরী পরিষদের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার জাহিদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ- পরিচালক
মোসাম্মৎ মরিয়ম, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন,
নাগরিক সংলাপের ধারণাপত্র সম্পর্কে আলোচনা করেন বারসিক এর পরিচালক পাভেল পার্থ।
আইসিডিএ’র নির্বাহী পরিচালক কাজী নওশাদ রাসেল সঞ্চালিত এ সংলাপে বিভিন্ন উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, যুব, সাংবাদিক, কৃষি ও পরিবেশ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় বক্তারা খাদ্য ব্যবস্থার বিদ্যমান সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, স্থানীয় কৃষি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কৃষকবান্ধব নীতি, এবং এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার প্রসার নিয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তারা ন্যায়সঙ্গত, অংশগ্রহণমূলক ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, কৃষক ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
নাগরিক সংলাপে বক্তারা বলেছেন, দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিজমি সংকুচিত হওয়া, একফসলি চাষের বিস্তার, নদী-জলাশয় ধ্বংস, জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অ্যাগ্রোইকোলজি ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কৃষক এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, বরিশালের কৃষিজমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শস্যবৈচিত্র্য হ্রাস পেয়ে এককভাবে ভুট্টা ও তামাক চাষের প্রবণতা বাড়ছে, যা খাদ্যব্যবস্থা ও পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। কৃষিকে টেকসই রাখতে দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, বহুমুখী ফসল চাষ এবং অ্যাগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তারা আরও বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে নদী ভাঙ্গন বেড়ে গেছে। এই নদীর ভাঙনে ফলে প্রতিবছর কৃষিজমি ও বসতি বিলীন হচ্ছে। অন্যদিকে নদী দখল, দূষণ ও নাব্যতা সংকটে অস্তিত্ব হারানোর পথে। একই সঙ্গে খাল-বিল, পুকুর, ডোবা ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অধিক মুনাফার আশায় রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মাটির উর্বরতা, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুচক্রের পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি উৎপাদনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
একই সঙ্গে খাদ্যসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংলাপে বক্তারা আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা (Food Security) এবং নিরাপদ খাদ্য (Food Safety) একে অপরের পরিপূরক হলেও তাদের ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্য অর্জনে অ্যাগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষি চর্চা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষকবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।