মুলাদী প্রতিনিধি ।।
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় বোয়ালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে চারতলা ভিতের ভবনটির একতলা নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ পাইলিং ও খুঁটি নির্মাণের পর আর কোনো কাজ হয়নি। এই অবস্থায় একটি টিনশেড ভবনের চারটি কক্ষে গাদাগাদি করে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন শিক্ষকেরা।
উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে ১৯৭৩ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি অর্ধশতকের বেশি সময় পার করলেও সেখানে কোনো সরকারি ভবন নির্মিত হয়নি। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও নিরাপদ পাঠদানের পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যালয়টির জন্য চারতলা ভিতের একটি একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। ঠিকাদার ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শুরু করেন। ওই বছরের ৩০ জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
প্রধান শিক্ষক বলেন, প্রায় ছয় মাস কাজ করে ঠিকাদার পাইলিং ও পিলার নির্মাণের পর কাজ বন্ধ করে চলে যান। এরপর তিন বছর পার হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর কাজ শুরু করেনি। ভবন নির্মাণের জন্য ঠিকাদারকে বারবার অনুরোধ করেও কোনো ফল হয়নি। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন কোনো বরাদ্দও পাওয়া যাচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র ঢালী বলেন, বিদ্যালয়ে বর্তমানে চার শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু টিনশেড ভবনে মাত্র চারটি কক্ষ আছে। এসব কক্ষে কোনোমতে পাঠদান চলছে। নবম ও দশম শ্রেণির বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময় এক কক্ষে একাধিক বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে।
দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন্নাহার হিয়া জানায়, ছাত্র-ছাত্রীর তুলনায় পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না।
এ প্রসঙ্গে ঠিকাদার আব্দুল মান্নান মনু বলেন, ভবনের নকশায় কিছুটা পরিবর্তন হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। শ্রমিকসংকটের কারণেও নির্মাণকাজ ব্যাহত হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ভবনটির কাজ পুনরায় শুরু হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।
মুলাদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবাইদা আকতার বলেন, বোয়ালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগির ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুপারিশ করা হবে।