রাইসুল ইসলাম অভি ।।
বরিশালের ইতিহাসের ছোট এক কোনে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি এখন অতীত,কারও চোখে হয়ত তিনি খারাপ কারন মৃত্যুর জন্য যে পথটি বেছে নিয়েছেন সেটি সত্যিই অন্যায়।কিন্তু কতটুকু হৃদয়ক্ষরন হলে একটি পুরোদস্তুর পজেটিভ থিংকার মানুষ এই পথ বেছে নেয় তা কি কেউ ভেবে দেখবেন? আসলে নিজের প্রিয় কর্মস্থল সমকাল থেকে চাকুরি হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন পুলক চ্যাটার্জী, তার মধ্যে বেছে নেন আত্মহননের পথ। তার এমন মৃত্যু মফস্বল সাংবাদিকদের যাতনার দিকটি মেলে ধরছে বলে মনে করছেন সহকর্মীরা।
বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সমকালের সাবেক ব্যুরোপ্রধান পুলক চ্যাটার্জীর ঝুলন্ত মরদেহ গতকাল শুক্রবার রাতে উদ্ধার করা হয় প্যারারা রোডস্থ সমকালের বরিশাল অফিস থেকে।
কেন তিনি সমকালে গিয়েই আত্নহননের পথ বেছে নিলেন এটা যদি কেউ বিশেষ করে যারা মফস্বলে সাংবাদিকতা করি তারা চোখ বুঝে কল্পনা করেন তাহলে বুঝতে পারবেন তার মনোবাসনা কি ছিলো।তিনি আসলে আমাদের বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন মফস্বল সাংবাদিকতার শেষ পরিনতি কি হতে পারে। যদিও পুলক দা তার পকেটে রেখে গেছেন পাঁচটি সুইসাইড নোট, যেগুলোতে তিনি কাউকে দায়ি না করলেও দায় রেখে গেছেন বাংলাদেশের কর্পোরেট মিডিয়া হাউজগুলোর প্রতি।ঐ চিঠিগুলোতে চাকরি হারানোর পাশাপাশি শারিরীক সুস্থতার নামে অর্থনৈতিক দৈন্যতা এনং প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা না পাওয়ার খেদের প্রকাশ করে গেছেন তিনি।
এইতো ৪/৫ দিন আগে সদররোড টাউন হলের সামনে থেকে হেটে যাচ্ছিলেন। আমার সাথে দেখা হবার সাথে সাথেই চিরায়ত সেই মিচকি হাঁসি।পরে কি মনে করে যেন বলেই বসলেন ঐ বিল্ডিংয়ের চারতলায় তোমার অফিস? বললাম দাদা আপনি আসলে খুব খুশি হবো।তিনি হয়ত পৃথিবী থেকে বিদায় নেবেন বলেই আমার আবদার রাখলেন, অফিসে আসলেন, বসলেন রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে খোজখবর নিলেন।পরে যখন বললাম দাদা অন্য কোন পত্রিকায় বসবেন না? তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন আমার সাংবাদিকতা আর করার ইচ্ছে নেই।তারপরও দেখি।বলে আর বেশিক্ষণ বসলেন না,বাসায় যাবেন বলে চলে গেলেন ওই ছিলো তার সাথে শেষ দেখা শেষ কথা। তবে প্রেসক্লাবের সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন ভাইকে খুব ভালোবাসতেন এবং ভরসা করতেন এটা তিনি মৃত্যুর আগেও বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। একটি সুইসাইড নোটে পুরোটা জাকির ভাই কে উদ্দেশ্য করে লিখে রেখে গেছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় পুলক চ্যাটার্জীর সৎকার হয় বরিশাল মহাশ্মশানে। তার আগে নগরীর উত্তর মল্লিক রোডের তার বাসভবনে রাখা হয় মরদেহ।
সকালে পুলক চ্যাটার্জীর মরদেহের ময়নাতদন্ত হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় বরিশাল প্রেস ক্লাবে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধার অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা।
পুলক চ্যাটার্জীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তাতে যদি এবার মিডিয়ার কর্পোরেট হাউজগুলোর টনক নড়ে। তবে সাংবাদিক সংগঠনগুলো যে কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না তা বরিশাল প্রেক্ষাপটে মরিয়া প্রমান করে গেলো বরিশালের অভিভাবকসম সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি।যিনি নিজে বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক এবং বর্তমান কার্যকরী পরিষদের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি অনান্য একাধিক সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন।কিন্তু আফসোস নিজের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকার জন্য ৩ বছর ধরে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী ছেড়েই চলে গেলেন তিনি।